বাড়ি থেকে বেরিয়ে হিলকার্ট রোডে টোটো ধরার পরিকল্পনা থাকলে এখন থেকেই বদলাতে হবে অভ্যাস। শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে সোমবার থেকে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগ। হিলকার্ট রোডকে যতটা সম্ভব যানজটমুক্ত রাখতে টোটো চলাচলে নতুন রুট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রথম দিনেই তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে।
সোমবার সকাল থেকেই নতুন ট্র্যাফিক ব্যবস্থার বাস্তবায়নে রাস্তায় নামে পুলিশ। অন্যদিনের তুলনায় যানবাহনের গতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। কোর্ট মোড় থেকে মাল্লাগুড়ি পর্যন্ত যাতায়াতে সময় কম লাগায় স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাস্তায় নামেন পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা-সহ ট্র্যাফিক বিভাগের আধিকারিকরা। নতুন ব্যবস্থায় মাল্লাগুড়ি থেকে গুরুং বস্তি পর্যন্ত হিলকার্ট রোডের দু’পাশের সার্ভিস রোড ব্যবহার করে টোটো চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এয়ারভিউ মোড় থেকে চার্চ রোড ও নবীন সেন রোড হয়ে সেবক রোডমুখী টোটোগুলিকে বিকল্প পথে পাঠানো হয়েছে। মহাবীরস্থান থেকে হাসমিচকগামী টোটোগুলিকেও ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
শুধু হিলকার্ট রোডই নয়, বাঘাযতীন পার্ক, বিধান রোড এবং গোষ্ঠ পাল মূর্তির সামনে এলাকাতেও টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে শহরের কেন্দ্রস্থলের যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এ বিষয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “কোনও রুটে টোটো বন্ধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র হিলকার্ট রোডকে যানজটমুক্ত রাখতে টোটোগুলিকে সার্ভিস রোড এবং বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করাই আমাদের লক্ষ্য।”
শিলিগুড়ির যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নতুন এই ট্র্যাফিক পরিকল্পনা কতটা স্থায়ী সাফল্য এনে দিতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বলছে, শহরের প্রাণকেন্দ্র হিলকার্ট রোডে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার দিকে।