CBSE বোর্ডের পোর্টাল নিয়ে একের পর এক অভিযোগ। এ বার কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের। অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম বিতর্ক থেকে পোর্টাল নিরাপত্তায় গাফিলতির জেরে CBSE-র চেয়ারম্যান ও সচিবকে বদলি করা হলো। একই সঙ্গে OSM পরিষেবা কেনা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিতর্কটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
মঙ্গলবার পোর্টাল নিয়ে একাধিক অভিযোগ ফের সামনে আসার পরেই CBSE-র চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তকে বদলি করার নির্দেশ সামনে আসে। একইসঙ্গে এস রাধা চৌহানের (S. Radha Chauhan) নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ দিনের সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, CBSE-র On-Screen Marking (OSM) সিস্টেমের জন্য পরিষেবা (services) নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া, বিশেষ করে টেন্ডার কী ভাবে হয়েছিল— তা খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল কাজ। কমিটিকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই রিপোর্ট জমা পড়বে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনাল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT)-এর কাছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত এবছর CBSE-র নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি, অর্থাৎ On-Screen Marking (OSM) চালুর পর থেকেই। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষকদের হাতে খাতা না দিয়ে স্ক্যান করা উত্তরপত্র কম্পিউটারের স্ক্রিনে দেখিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। বোর্ডের দাবি ছিল, এতে মানবিক ভুল কমবে, নম্বর গণনায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মূল্যায়নের গতি বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে ফল প্রকাশের পর বহু ছাত্রছাত্রী অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর অস্বাভাবিকভাবে কম এসেছে। পরে স্ক্যান করা কপি হাতে পেয়ে অনেকেই দেখেন—কিছু পৃষ্ঠা অস্পষ্ট, কোথাও উত্তরই দৃশ্যমান নয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে পাতা অদলবদলের মতো গুরুতর ত্রুটিও রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্রে স্ক্যানিং সংক্রান্ত সমস্যা ধরা পড়েছে। যদিও CBSE জানিয়েছে, অধিকাংশ কপি ঠিক ছিল, তবুও হাজার হাজার খাতা পরে ম্যানুয়ালি পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়েছে। এর ফলে বোর্ডের ডিজিটাল স্ট্রাকচার-এর প্রস্তুতি এবং মান নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। একই সময়ে স্টেপ মার্কিং ঠিকমতো না মানা, কিছু উত্তর ‘unchecked’ থেকে যাওয়া এবং নম্বর যোগে ভুলের অভিযোগও সামনে আসে।
এই বিতর্কের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ে। এক তরুণ সাইবার গবেষক দাবি করেন, OSM প্ল্যাটফর্মে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে নম্বর পরিবর্তনের মতো আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। যদিও CBSE এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, আসল মূল্যায়ন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং যে প্ল্যাটফর্মে ত্রুটি ধরা পড়েছে সেটি একটি টেস্টিং সিস্টেম। তবুও এই ঘটনা বোর্ডের ডিজিটাল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।
এরই মধ্যে পুনর্মূল্যায়ন পোর্টাল চালু হতেই নতুন করে সমস্যা দেখা দেয়। বহু ছাত্রছাত্রী লগইন করতে না পারা, পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া, সেশন এক্সপায়ার হওয়া এবং ওয়েবসাইট ক্র্যাশের অভিযোগ করেন। CBSE পাল্টা দাবি করে, পোর্টালটি অস্বাভাবিক ট্র্যাফিক এবং সম্ভাব্য সাইবার হামলার মুখে পড়েছিল—মাত্র কয়েক মিনিটে বিপুল সংখ্যক হিট আসায় পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটে। তবে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ মনে করছে, এটি মূলত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও ঘাটতির ফল এটি।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। গঠিত তদন্ত কমিটি মূলত খতিয়ে দেখবে—OSM পরিষেবা কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, কোনও নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখা হয়েছিল কি না এবং ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ মোকাবিলায় CBSE কতটা কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হবে।