তৃণমূলে ভাঙন নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার বিকেলে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সেই জল্পনায় আরও জলবাতাস দিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, বুধে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন, সেই বৈঠকে হাওড়া গ্রামীণের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক উপস্থিত থাকবেন। ঘটনাচক্রে, ঋতব্রত যে বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক, সেই উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রও হাওড়া গ্রামীণ এলাকার মধ্যেই পড়ে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে আগেও তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়কেরা যোগদান করেছেন। সে রকমই একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। তাঁর দলবদল নিয়েও চর্চা হয়েছে রাজনীতিতে। কিন্তু বিধানসভায় জাল সই কাণ্ড নিয়ে ঘরে-বাইরে শোরগোলের মধ্যে দলীয় বিধায়কদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগদান অন্য মাত্রা যোগ করবে বলেই মত অনেকের।
যদিও এখনই এই ধরনের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ ঋতব্রত। শুধু তা-ই নয়, বহিষ্কৃত হলেও, তিনি মনে-প্রাণে তৃণমূলেই আছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু পর ক্ষণেই জল্পনা বাড়িয়ে ঋতব্রত বলছেন, ‘কাল কী হবে, এখনই বলতে পারছি না।’ প্রকাশ্যে ঋতব্রত এ-ও অস্বীকার করছেন না যে, তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দলীয় বিধায়কদের একাংশের যোগাযোগ থাকছে। সই জালিয়াতি কাণ্ডে সোমবার ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল বহিষ্কার করার পরেই তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। তার মধ্যেই সে দিন রাতের দিকে অসমর্থিত সূত্রে খবর মেলে, বিধায়ক নিবাসে তৃণমূলের কয়েক জন বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ঋতব্রত এবং সন্দীপন। মঙ্গলবার সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে ঋতব্রত বলেন, ‘এমএলএ হস্টেলে মুড়ি খেয়েছিলাম আমরা। জাভেদ খান ছিলেন। শিউলিদিও (শিউলি সাহা) ছিলেন।’ ঋতব্রত জানান, সম্প্রতি মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষের সঙ্গেও দেখা হয়েছে তাঁর। প্রসঙ্গত, সোমেও পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রথীন।
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই তৃণমূল আর থাকবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন ঋতব্রত। এ দিন সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে দিয়ে তাঁর দাবি, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলনেত্রী মনে করেন। কিন্তু তাঁর সমস্যা দলের কার্যপদ্ধতি নিয়ে। তাঁর কথায়, ‘দলটা কর্পোরেট কালচারে চলে। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। আমাদেরও গোদরেজ ওয়াটারসাইডে রিপোর্ট করতে হতো। এ ভাবে দল বাঁচতে পারবে না, সেটাই বলতে চেয়েছি।’ দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মেরেকেটে ২০ জন উপস্থিত থাকায় গত রবিবার কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক বাতিল করে দেন দলনেত্রী মমতা। সেই বৈঠক গরহাজির থাকা নিয়ে ঋতব্রত বলেছেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিতে পারব না। তাই যাইনি।’
তৃণমূল যে ভাঙনের মুখে এবং ঋতব্রতই যে তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বুধবার একটি ফেসবুক পোস্টে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি লিখেছিলেন, ‘তৃণমূল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। বিধানসভায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।’ তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি হয়। তার কিছু ক্ষণ পরেই এ বিষয়ে ঋতব্রতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে ‘সবই জল্পনা’ বলে কার্যত এড়িয়ে যান তিনি। কিন্তু বিকেলে বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা বলেন, ‘তাপসদা ডেপুটি চিফ হুইপ ছিলেন এক সময়ে। নতুন সরকারেরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। উনি কী পোস্ট করেছেন, দেখিনি। আমার কাছে কোনও তথ্য নেই।’