মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তারকেশ্বরের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান। সেই টানেই তিনি বার বার সেখানে ছুটে গিয়েছেন। কখনও মন্দিরে, কখনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম তারকেশ্বরের মন্দিরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিকে। হাসতে হাসতে বললেন, ‘কী দুরবস্থা! ১৫০ লোকও হয়নি।’ তৃণমূল দলটা ফলতা হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, ফলতার পুনর্নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে তৃণমূল। শুভেন্দু সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
কলকাতা থেকে সড়ক পথে তারকেশ্বর মন্দিরে পৌঁছন শুভেন্দু। মন্দিরের পাশে অতিথি নিবাসে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তার পরে তাঁদের নিয়েই সোজা চলে যান মন্দিরে। ভক্তি ভরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘এ বার আরও বড় করে শ্রাবণী মেলা হবে।’ তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। এ দিনই তিনি ফের ফান্ড চালুর জন্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং প্রধান সচিবকে নির্দেশ দেবেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু।
পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কয়েক বছর তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এ দিন শুভেন্দু অবশ্য তাঁর নাম নেননি। তবে মন্দিরে নতুন রঙ করার কথাও জানিয়ে বলেন, ‘মন্দিরের রং সব সময়ে আধ্যাত্মিক হওয়া উচিত। সেটাই আমরা করব।’ রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে রামের মূর্তি মাথায় নিয়ে গোটা তারকেশ্বর ঘুরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে নয়, তারকেশ্বরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক পুরোনো। শ্রীরামের মূর্তি মাথায় নিয়ে খালি পায়ে গোটা তারকেশ্বর ঘুরেছি।’
এর পরেই কটাক্ষ ছুড়ে দেন মমতাকে। তৃণমূল কর্মীদের উপরে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মমতা। তাঁর কর্মসূচি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তীব্র টানাপড়েন চলছে রাজনৈতিক মহলে। মমতা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তার পরেও ধর্না হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশের অনুমতিতেই কর্মসূচি শুরু করেন মমতা। অভিষেক বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, ফোন করছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘আমি তো শুনেছিলাম অসুস্থ। স্যালাইন-ট্যালাইন কী সব চলছে নাকি।’