কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে লক্ষাধিক টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা রাজ্যে। মঙ্গলবার শিয়ালদহ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, বেশির ভাগই ১০০ আর ৫০০ টাকার নোট। তবে সবই উইয়ে কাটা। এত টাকা কী ভাবে ইউনিয়ন রুমে এল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। গোটা ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলের ছাত্র নেতাদের নিশানা করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও কলেজের ছাত্রদের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষায় আগে কলেজ কর্তৃপক্ষকে গোটা এলাকা পরিষ্কার করতে বলেছিলেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। সেই মতো এ দিন কাজ শুরু করেন সাফাই কর্মীরা। ইউনিয়ন রুমেও চলছিল সাফাই কাজ। তখনই আলমারি থেকে উদ্ধার হয় দু’টি স্যুটকেস। সেগুলো খুলতেই সকলের চক্ষু চড়কগাছ। ভিতরে বান্ডিল বান্ডিল নোট। সব উইয়ে কাটা।
দু’টি ব্যাগ মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। ব্যাগ এবং বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করেন তাঁরা। পুলিশের যদিও দাবি, বর্ষার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালীন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কর্মীরা একটি স্টোররুমে দু’টি স্যুটকেস খুঁজে পান। সুরেন্দ্রনাথ ডে কলেজ ও ইভনিং কলেজের অধ্যক্ষদের উপস্থিতিতে স্যুটকেস দু’টি খুলে দেখা যায়, সেগুলিতে ১০০ টাকা ও ৫০০ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ময়লাযুক্ত বিপুল নোট রাখা রয়েছে। তবে মোট টাকার পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। কলেজের ইউনিয়ন রুমে এত টাকা কী ভাবে এল, কে বা কারা রাখল, জানা যায়নি তা-ও।
একই সঙ্গে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কত কিছু দেখব! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বান্ধবীর খাটের তলা থেকে টাকা উদ্ধার হলো। তৃণমূল কাউন্সিলারদের পাটখেত থেকে টাকা উদ্ধার হতে দেখলাম। এ বার কলেজ থেকেও টাকা উদ্ধার হলো।’ সজলের প্রশ্ন, ‘কত টাকা থাকলে উইয়ে খায়?’ বিজেপি বিধায়কের আরও অভিযোগ, ‘এই কলেজের ফাংশন ফান্ডে কোটি টাকা আছে। আবার কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত জড়িত। এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।’
তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ। টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সুরেন্দ্রনাথের টিচার ইনচার্জ পূর্ণেন্দু পালকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।