ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযোগ করছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা ও পদাধিকারী। চলছে গণইস্তফা। এ বার দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার।
দল নিয়ে নানা সমস্যার কথা আগেও ছিল। কিন্তু দলে কাউকে বলার মতো ছিল না বলে দাবি তাঁর। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বলছেন, ‘দলের সঙ্গে যেটুকু সম্পর্ক ছিল সাংসদ বাপি হালদার সেসব চুকিয়ে দিয়েছেন। দল ডাকে না। দল যোগাযোগ রাখে না।’ সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দলকে জানিয়েছিলেন? তাঁর অভিযোগ, ‘কে শুনবে আমার কথা? সাংসদের বিরুদ্ধে শোনার মতো কেউ নেই দলে।’ সাংসদের জন্যই তাঁকে এ বার টিকিট দেওয়া হয়নি বলে যোগরঞ্জনের অভিযোগ।
তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘আমাদের দলে অনেকে ঢুকে টাকা তুলছে। চাকরি দেবে, বাড়ি দেবে বলে। আমি বিরোধিতা করেছিলাম। সেটা দল ভালো চোখে দেখেনি, তাই হয়তো টিকিট দেয়নি। তোলাবাজদের পাশে দাঁড়ালে হয়তো এমন হতো না। কিন্তু আমি সেটা করতে পারব না।’ তাঁর দাবি, তিনি আগেই বুঝেছিলেন এ ভাবে কোনও দল থাকতে পারে না। দল হারতে পারে ভেবেছিলেন? যোগরঞ্জনের দাবি, ‘দলের বহু পুরোনো মুখকে প্রার্থী করেনি, তখনই বোঝা গিয়েছিল দলের হারার সম্ভাবনা প্রবল।’
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। কেন জানালেন অভিনন্দন? যোগরঞ্জন হালদার বলছেন, ‘ক্ষমতায় এসেই একের পর এক কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস রাইড, বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি, অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ চালু, ডিএ নিয়ে ভাবনা। সেই জন্যই জানিয়েছি অভিনন্দন।’ নতুন সরকার তোলাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রশংসা করেন তিনি। দল পরিবর্তন করছেন? তাঁর উত্তর, এই মুহূর্তে এমন ভাবনা নেই। তবে এখন তৃণমূলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।