• তারকেশ্বরের জন্য বিরাট পরিকল্পনার ঘোষণা শুভেন্দুর
    আজকাল | ০৩ জুন ২০২৬
  • মিল্টন সেন,হুগলি: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম তারকেশ্বর গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন নবান্ন থেকে বেরিয়ে সড়ক পথে সোজা তারকেশ্বর মন্দিরে পৌঁছন তিনি। সেখানে পৌঁছতেই উত্তরীয় পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্বর্ধনা জানান তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে পুজো এবং অঞ্জলি দেন।

    মঙ্গলবার মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান তারকেশ্বরের নটরাজ গেস্ট হাউসে। সেখানে তিনি প্রবেশ করতেই হুগলি জেলা(গ্রামীণ) পুলিশের তরফে তাঁকে গার্ড অফ অনার দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যোগ দেন সেখানে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী তথা হুগলির দুই বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং সুমনা সরকার।

    প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ, চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ, সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ, পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার, আরামবাগের বিধায়ক বিমান ঘোষ সহ জেলার ১৪ জন বিজেপি বিধায়ক। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরি, চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ সহ পুলিশ এবং প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে বৈঠক। বৈঠক শেষে আবার কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী।

    এর আগে বিরোধী দলের নেতা থাকাকালীন নবান্ন অভিযানের স্বপক্ষে ২০২২ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর তারকেশ্বর শহরে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিছিলে শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানো এবং পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তারপর ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তারকেশ্বরে একটি জনসভা করেছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন তিনি রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে রামের মূর্তি মাথায় নিয়ে গোটা তারকেশ্বর শহর পরিক্রমা করেছিলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তারকেশ্বর এলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,"আমি তারকেশ্বরে রাম মন্দির মাথায় নিয়ে গোটা শহরে হেঁটেছিলাম।" কয়েক কিলোমিটার রাস্তা খালি পায়ে হেঁটেছিলাম। গত দশ বছরে টিডিএ তারকেশ্বরে কিছু কাজ করলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কাজই শেষ করতে পারেনি।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী তারকেশ্বর নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন। বলেন, "১৯৪৭ এর ২০ জুন আমরা বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড পেয়েছিলাম। এবং আমাদের পূর্ব পাকিস্তান বা পাকিস্তান বা তদানীন্তন বাংলাদেশে যেতে হয়নি আমরা পশ্চিমবঙ্গ, ভারতে বসবাস করছি। বাবা তারকনাথের দর্শন করতে পারছি। বাবার মাথায় জল ঢালতে পারছি। কপালে চন্দন লাগাতে পারছি। ঐতিহাসিক জায়গা। এখানে আমরা তারকেশ্বরে যেহেতু ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রেজুলেশন দিয়েছিলেন। তাই এই জায়গা এবং ২০ শে জুন নিয়ে পরিকল্পনা আছে।"
  • Link to this news (আজকাল)