সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় ১৭৩ জন পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে।
রাজ্যে এর আগের সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের ৫০০ টাকা করে প্রত্যেক মাসে ভাতা দেওয়া শুরু করে সেটি ধীরে ধীরে বেড়ে হয় ১৫০০ টাকা! জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সূত্রে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে কৃষ্ণনগর-২ ব্লক প্রশাসনের নজরে আসে এই অসঙ্গতি।
তদন্তে দেখা যায়, ব্লকের বিভিন্ন এলাকার মোট ১৭৩ জন পুরুষের নাম উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের অর্থও পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের বিডিও সংশ্লিষ্ট নামগুলি বাতিল করার জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি এই অনিয়মের জন্য বিডিও অফিসের কর্মী ভোলা শীলকে শোকজ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে শোকজের পর থেকেই ভোলা শীলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ধুবুলিয়ার নেতাজি পল্লিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছেন। যদিও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভোলা শীলের মা ও বাবা দাবি করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হওয়ায় তাঁদের পরিবারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার জেরে পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। প্রশাসনের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।