উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে পড়ে থেকে নষ্ট হল
আজ তক | ০৩ জুন ২০২৬
Surendranath College Cash Recovery: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে উদ্ধার হল দু’টি ব্যাগ ভর্তি উই ধরা টাকা। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র সংসদের ঘরের একটি আলমারি খুলতেই উদ্ধার হয় দু’টি ব্যাগ। সেই ব্যাগের ভিতরে ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। দীর্ঘদিন আলমারির মধ্যে পড়ে থাকায় অধিকাংশ নোটেই উই ধরে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার মোট পরিমাণ কত, তা নিয়ে পুলিশ এখনও(প্রতিবেদন লেখার সময়) অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপাতত রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের অভিযোগ, কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি চলেছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের ছাত্রনেতাদের একাংশ ভর্তির বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছে। সেই টাকারই একটি অংশ কলেজের ইউনিয়ন রুমে মজুত রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
সজলের দাবি, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি পুলিশ। তবে টাকার উৎস এবং কেন তা কলেজের ইউনিয়ন রুমে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনাচক্রে, কয়েকদিন আগেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সজল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। চিঠিতে ছাত্র সংসদের তহবিলের হিসাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের তথ্য তুলে ধরে বিজেপি বিধায়কের দাবি, কলেজের ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক তহবিলে প্রায় দেড় কোটি টাকা জমা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণত ছাত্র সংসদের জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। সেই টাকা থেকে তহবিলে বছরে দেড় কোটি টাকা জমা হওয়া সম্ভব নয়।
মঙ্গলবারও একই অভিযোগ তুলে ধরেন সজল। বলেন, ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা গেলে টাকার রহস্যের সমাধান হতে পারে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বিপুল পরিমাণ ক্যাশ টাকার উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। ইউনিয়ন রুমে কীভাবে এত নগদ টাকা এল এবং কত দিন ধরে তা সেখানে পড়ে ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত অঙ্ক, উৎস এবং মালিকানা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখা হবে।