সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিবন্ধী স্বামীকে পিঠে করে নিয়ে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে পৌঁছলেন এক মহিলা। লক্ষ্য একটাই— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতা দরবার’-এ নিজের সমস্যার কথা জানানো এবং সরকারি সাহায্যের আবেদন করা। হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা নজর কেড়েছে উপস্থিত সকলের।
রাজধানী কলকাতায় আয়োজিত জনতা দরবারে সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই সুন্দরবন থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় আসেন সন্ন্যাসী মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজে চলাফেরা করতে না পারায় স্বামীকে পিঠে করেই নিয়ে আসেন তাঁর স্ত্রী।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্ন্যাসী মণ্ডল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি ইলেকট্রিক গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর পরিবারের জন্য একটি সরকারি আবাসন এবং স্ত্রী যাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই দাবিও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন।
সন্ন্যাসী বলেন, “আমি সুন্দরবন থেকে এসেছি। আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। আমার চলাফেরার জন্য একটি ইলেকট্রিক গাড়ি খুব প্রয়োজন। এছাড়া আমাদের নিজের কোনও বাড়ি নেই। আমার স্ত্রীও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে সাত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
জনতা দরবারে উপস্থিত সরকারি আধিকারিকরাও তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আশাবাদী হয়ে ফিরেছেন ওই দম্পতি।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের জনসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই জনতা দরবারের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সরাসরি সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের কাছে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচিতে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন।
অনেকেই দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমস্যার সমাধান হয়নি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। জনতা দরবারে এসে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দাবি সরাসরি প্রশাসনের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
সুন্দরবনের এই দম্পতির ঘটনা জনতা দরবারের মানবিক দিকটিকেই আরও একবার সামনে এনে দিল। জীবনের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকারি সহায়তার আশায় তাঁদের এই সংগ্রাম অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।