‘আমি লড়ব, না হলে মরব’, ভোট পরবর্তী হামলার প্রতিবাদে ধর্মতলায় জনসমাবেশ মমতার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার এসপ্ল্যানেডে দলের কর্মী ও শীর্ষ নেতাদের উপর হামলার প্রতিবাদে একটি ধরনা কর্মসূচির আয়োজন করেন। আক্রান্তদের মধ্যে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আছেন। ধরনাস্থল থেকে মমতা বলেন, ‘আমি লড়ব অথবা মরব’। তিনি অভিযোগ করেন পুলিশ মঞ্চ তৈরি ও মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
এছাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্য পুলিশ টিএমসি নেতাদের ভয় দেখাচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের নেতাদের হুমকি দিচ্ছে। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার আমাদের এক নেতাকে ফো করে পদত্যাগ করতে বলেছেন। নইলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমাদের নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধরনার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ সেখানে অনুমতি না দিয়ে এসপ্ল্যানেডের ওয়াই চ্যানেল এলাকায় কর্মসূচি করার প্রস্তাব দেয় বলে খবর।
ধরনামঞ্চে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতির ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল জানায় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মানষের ভালোবাসা ও সমর্থন স্বতঃস্ফূর্ত এবং অতুলনীয়। দলের তরফে বলা হয়, ‘ভিড়ই সব বলে দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা স্বাভাবিক, আন্তরিক এবং তুলনাহীন। কোনও প্রচার বা প্রোপাগান্ডা দিয়ে এমন সম্পর্ক তৈরি করা যায় না। এটি বহু বছরের বিশ্বাস, সহমর্মিতা এবং বাংলার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির ফল।‘ ধরনায় যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য নেতারা।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল কারণ ছিল গত সপ্তাহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা। ৩০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় আহত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন। তাঁর উপর ইট-ডিম ছোঁড়া হয়। জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তার ঠিক এক দিন পরেই ৩১ মে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির একটি থানার সামনে বিক্ষোভকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হন। ওই ঘটনায় তাঁর মাথায় আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে।