৫০ বিধায়ককে নিয়ে নতুন তৃণমূল? জল্পনা জিইয়ে ঋতব্রত বললেন, ‘কাল কী হবে কে জানে’
প্রতিদিন | ০৩ জুন ২০২৬
কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, এবার প্রাক্তন বামনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হতে চলেছে নতুন তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়া হবে ঘাসফুলের প্রতীক। মঙ্গলবার ঋতব্রত বিধানসভায় ঢুকতেই শোনা গিয়েছিল, ৫০ জন বিক্ষুদ্ধ তৃণমূলের বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি জমা দিতে চলেছেন তিনি। বিকেলে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে চিঠি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেন ঋতব্রত। জানালেন, ব্যক্তিগত কাজে তিনি বিধানসভায় ছিলেন। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার হোটেলে বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের যে খবর ছড়িয়েছে তাও উড়িয়ে দিলেন বিধায়ক। তবে নতুন তৃণমূলের জল্পনা জিইয়ে রেখে বললেন, “আমি আজ-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে জানি না, বলতে পারব না।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিলই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee)। সই কাণ্ডের সূত্র ধরে নিয়ে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যার জেরে ঋতব্রত-সহ ২ বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল। এরপরই উঠে আসে নতুন তৃণমূলের তত্ত্ব। শোনা যায়, এবার নাকি ৫০ বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে নতুন তৃণমূল গঠন করতে চলেছেন ঋতব্রত। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, মঙ্গলবারই ৫০ জন বিধায়কের সই সম্মিলিত একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দিতে চলেছেন তিনি। শোনা যাচ্ছিল, ৫০ বিধায়কের সই সম্মিলিত চিঠিতে নতুন তৃণমূলের ভিত্তিপ্রস্তরের কথা বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক তাঁরাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন।
মঙ্গলবার বিধানসভা থেকে বেরতেই স্বাভাবিকভাবে চিঠি নিয়েই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। সেখানেই ঋতব্রত দাবি করেন, চিঠি নিয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। গল্পের গরু তো গাছে তুলতে পারবেন না! এদিন সকালে তাপস রায়ের একটি পোস্ট নতুন তৃণমূলের জল্পনা উসকে দিয়েছিল। তা নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “উনি কী পোস্ট করেছেন উনি বলতে পারবেন। তবে আমি নাকি দক্ষিণ কলকাতার হোটেলে বৈঠকে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে বসেছি বলে শোনা যাচ্ছে। আমি বলব, আমার টাওয়ার লোকেশন দেখুক। আমি কোথায় ছিলাম।” যদিও রথীন ঘোষ, শিউলি সাহার সঙ্গে দেখা করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
আসলে নিয়ম অনুযায়ী যদি তৃণমূলের দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক বিধানসভায় দাবি করেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। সেক্ষেত্রে তাঁরা দলের প্রতীক পেতে পারেন। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকে স্পিকারের হাতেই। ছাব্বিশে ৮০ টি আসন জিতেছিল তৃণমূল। ফলে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের জন্য প্রয়োজন ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়ক। কিন্তু এই মুহূর্তে ঋতব্রত সঙ্গে রয়েছেন ৫০ জন। সেই কারণেই এদিন চিঠি জমা করতে পারেননি তিনি। শোনা যাচ্ছে, আগামিকালের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করে চিঠি জমা দিতে পারেন উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক। সেই কারণেই চিঠি কথা অস্বীকার করেও জল্পনা উসকে তিনি বললেন, “কাল কী হবে কে জানে!”