তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে এবার ব্যাঙ্কশাল আদালতের বড় নির্দেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ৩ বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহে অনুমতি দিল আদালত। আজ, মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরে এবার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়, শুভাশিস দাস ও বাহারুল ইসলামদের হাতে লেখা সইয়ের নমুনা জমা দিতে হবে। ব্যাঙ্কশাল আদালতের ১৯ নম্বর কোর্টে তাঁদের সইয়ের নমুনা জমা হবে বলে নির্দেশ।
সই কাণ্ডের সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু।
দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় জালিয়াতি সন্দেহ হয় সচিবের। তিনি থানায় এফআইআর করেন। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। এরপরই একাধিক তৃণমূল বিধায়ককে নোটিস দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সিআইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষদের বাড়িতে তদন্তেও গিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। ‘সই জাল’ কাণ্ডে আরও জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছেন সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ১৯ তারিখ কালীঘাটের অফিসে যে অ্যাটেনডেন্স খাতায় সই করানো হয়েছিল তারই পাতা ছিঁড়ে জমা দিয়ে নাকি রেজুলিউশনের কাগজ বলে দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁদের বহিষ্কারও করেছে দল। এই সই কাণ্ড নিয়ে তৃণমূল যে প্রবল অস্বস্তিতে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত নথিতে সই জালিয়াতির অভিযোগ তোলের তৃণমূলের ৩ বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং শুভাশিস দাস। তাঁরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এবার আদালতের এই নির্দেশ ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।