নিজেকে ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ বলে পরিচয় দিতেন। শোনাতেন ধর্মকথা। সেই সব নিয়ে একটা ইউটিউব চ্যানেলও ছিল তাঁর। কিন্তু এই সবই মুখোশ। আড়ালে তরুণীদের যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেলের মতো গুরুতর অভিযোগে আইআইটি রুরকির প্রাক্তন ছাত্র অভিষেক মিশ্রকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের মথুরার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিষেক ওডিশার বাসিন্দা। আইআইটি রুরকিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক হন। তার পরে চলে যান মথুরায়। সেখানে ‘আদিকর্তা নারায়ণ দাস’ নাম নেন। শুরু হয় ‘আধ্যাত্মিক জীবন’। মথুরার রাধাকুঞ্জ এলাকায় রীতিমতো আশ্রম খুলে বসেন তিনি। সঙ্গে ‘রাধা কৃপা অমৃত’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলও চালু করেন। সেখানে ‘আধ্যাত্মিক জ্ঞান’ বিতরণ করতেন। তা শুনে অনেক তরুণ-তরুণীই ছুটে যেতেন অভিষেকের কাছে। তার পরেই শুরু হতো আসল খেলা।
তরুণ-তরুণীদের পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাঁর আশ্রমে থাকার জন্য উৎসাহিত করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর ফাঁদে পড়েছিলেন প্রায় ২৪ জন তরুণ-তরুণী। তাঁরা অভিষেকের আশ্রমেই ঘাঁটি গেড়েছিলেন। সেই সব তরুণীদেরই তিনি নিজের লালসার ফাঁদে ফেলতেন বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তরুণীদের সঙ্গে ‘গান্ধর্ব বিবাহ’ করতেন অভিষেক। অভিযোগ, তার পরে প্রসাদের নামে মাদক মেশানো দুধ খাইয়ে শুরু হতো যৌন নির্যাতন। শুধু তাই নয়, সেই সব কাণ্ডের ছবি, ভিডিয়ো তুলে রাখতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে সেগুলো দেখিয়েই করতেন ব্ল্যাকমেল। অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রথম মুখ খোলেন ছত্তিশগড়ের এক তরুণী। এর পরেই অভিষেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিষেকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অশ্লীল ছবি আর ভিডিয়োগুলিই এখন তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার পুলিশের। আশ্রমের আবাসিকদের থেকেও তিনি মোটা টাকা তুলতেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কত জন মহিলা এই চক্রের শিকার হয়েছেন, তা জানা যায়নি। অভিষেককে গ্রেপ্তার করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।