• 7 বছরের বেশি জেল হতে পারে অভিষেকের, পলিটিক্যাল কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে: তারক সিং
    eTV Bharat | ০২ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 2 জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী দূরত্ব তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফাউন্ডারও তিনি। উনি যদি লড়াই করতেন তাহলে 1972 সালে বামেদের পথ অনুসরণ করে বিধায়কদের বিধানসভা বয়কট করাতে পারতেন। একের পর এক বিস্ফোরক প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনোজির আক্রমণ করলেন কলকাতা কর্পোরেশনের নিকাশি বিভাগের সদ্য ইস্তফা দেওয়া মেয়র পারিষদ সদস্য তারক সিং।

    এদিন তিনি ইস্তফা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "দলের ভূমিকায় নিশ্চয়ই অখুশি। আজও আমি বলছি, হয় ইস্তফা দেওয়া, নয় তো আইনি পথে এগোনো দরকার। আমি বলেই দিয়েছি সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদত্যাগ চাই। আমি তাহলে তাঁকে কেন কিছু জানাতে যাব ? আমি তো বোকা নই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছি, আমি তাঁকে কেন কিছু জানাতে যাব ? অভিষেক... অভিষেক বলে একটা গল্প ছড়িয়েছে। অভিষেককে বানালোটা কে? অভিষেকের প্রডিউসার কে? ফাউন্ডার কে? ...মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"

    আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে তিনি বলেন, "এই যে বিধায়করা বহিষ্কৃত হয়েছেন, এটা কত লজ্জার ব্যাপার ৷ বিধায়কদের সই নকল করে জমা দেওয়া হচ্ছে ! অরূপ রায় বলছে, আমার সই নয়। কেউ নেই তাঁর নামে সই করে জমা দিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই বৈঠকে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ছিলেন, অভিষেককে বলতে পারতেন। আজ একটা ছেলে ছোট থেকে বড় হয়ছে, পড়াশুনো করে রাজনীতিতে এসেছে। কোনও অপরাধ নেই। তাঁকে মেরেছে, সেটাও সমর্থন করি না। এই জিনিস কত দিন চলবে? সরকার বদল হবে আর মানুষ মার খাবে ? পরিবেশের পরিবর্তন দরকার আমি মনে করি। মনে করি, অভিভাবকদের উচিত ছেলে মেয়েকে সৎ ভাবে বোঝানো। আজ অভিষেকের বাড়ির লোকজনের কী অবস্থা হচ্ছে ! এই পরিস্থিতি তৈরি হল কেন?"

    শুভেন্দু অধিকারী বিরুদ্ধে 'চোর চোর' স্লোগান তোলা প্রসঙ্গে তারক সিং বলেন, "একটা স্লোগান, 'চোর চোর চোরটা... শিশির বাবুর ছেলেটা।' শুভেন্দু অধিকারী বিরুদ্ধে বলল, সে আজ মুখ্যমন্ত্রী। ওনার বাড়ির সঙ্গে 45 বছরের সম্পর্ক। আজ পর্যন্ত আছে। আমার ওয়ার্ডে ফ্ল্যাট আছে। এখনও ওর ভাই, শিশির দা'র সঙ্গে কথা হয়। শিশির দা প্রবীণ লোক। এই একটা স্লোগান আজ দলটাকে চোর করে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্টে চোর স্লোগান শুনল, এখন নিচু তলা শুনছেন। একটা লোককে চোর করতে গিয়ে সারা দলটাকে চোর বানিয়ে দিল। তখন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা উচিত ছিল না এটা সঠিক হয়নি? শিশির দা, তাঁর পরিবার, শুভেন্দুর অনেক অবদান আছে তৃণমূল কংগ্রেসে। একটা সময় আমাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকে বলেছিলেন, নন্দীগ্রামে যেতে হবে। আমি সাইফুদ্দিন চৌধুরী, অনুরাধা দেব, পার্থ চট্টপাধ্যায় চারদিন নন্দীগ্রামে ছিলাম। রাতে রোজ এসে শুভেন্দু দেখা করত।"

    এর পরই গুরুতর অভিযোগ করে তারক সিং বলেন, "আজ শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে যে দূরত্বটা হল, কোথা থেকে হল, কে করল? যুব কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মমতা যুব তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করল। কিছুদিন সৌমিত্র খাঁ-কে দিল। আবার অভিষেককে দিয়ে দিল। এই যে পার্টির মধ্যে বিভেদ, এটাতো উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) চালু করেছেন। ওনার মানসিকতার জন্য আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভুগছে। আইনজীবীরা বলছেন, যে সমস্ত ধারায় মামলা হবে, তাতে 7 বছরের বেশি জেল হতে পারে। অভিষেকের পলিটিকাল কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে ভোটে দাঁড়াতে পারবে না। কী লাভ হল এটা করে ? অভিভাবকের শাসন ঠিক হয়নি। আমাদের তো কথা বলার সুযোগ ছিল না।"

    সদ্য ইস্তফা দেওয়া মেয়র পারিষদ সদস্য বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে লড়াই করে এসেছিলেন আমরা একটা বিশ্বাস নিয়ে ওনার সঙ্গে ছিলাম। নির্বাচন হয়েছে, হারজিত হতেই পারে। উনি বললেন, 'আমি এই নির্বাচন মানি না। আমি ইস্তফা দেব না।' এই নির্বাচন যদি আমরা না মানি, আমাদের দলের এমএলএ-রা শপথ নিলেন কেন ? একই লোক দু'রকম চরিত্র। লোককে এত বোকা ভাবলে হবে ! কেন বিরোধী দলনেতা হল ? কেন চিফ হুইপ হল? আপনি কি বামফ্রন্টের মতো করতে পারতেন না ? 1972 সালে কংগ্রেস সরকার গঠন করেছিল। বামেরা বলল, ভোট চুরি করে যে সরকার গঠন হয়েছে, সেই বিধানসভায় আমরা থাকব না। সেই কথা মতো 5 বছর বিধানসভায় যায়নি বামেরা। বিধানসভা বয়কট। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ওই পথে হাঁটতে পারতেন না?"
  • Link to this news (eTV Bharat)