কলকাতা, 2 জুন: 19 জুন প্রেক্ষাগৃহে আসছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত বাংলা ছবি 'অভিমান'। যীশু সেনগুপ্ত ও সৌরভ দাস প্রযোজিত 'হোয়াই সো সিরিয়াস ফিল্মস'-এর ব্যানারে প্রথম বাংলা ফিচার ফিল্ম এটি৷ অভিনয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, পার্থ ভৌমিক প্রমুখ৷ ইটিভি ভারতের সঙ্গে ছবি নিয়ে নির্ভেজাল আড্ডা দিলেন যীশু সেনগুপ্ত৷
ইটিভি ভারত: প্রথম কোনও পূর্ণ দৈর্ঘের ছবি আসছে আপনার আর সৌরভের প্রযোজনায়৷ চিন্তার মাঝেও আনন্দ কতখানি ?
যীশু: আনন্দ প্রচণ্ডই আছে৷ তার সঙ্গে ভালোও লাগছে যে অনেক কিছু শিখতে পারছি৷ ছবি বানানোর সঙ্গে আগেও যুক্ত ছিলাম৷ 'নৌকাডুবি'র সময়ে সুভাষ ঘাইয়ের সঙ্গে কো-প্রোডাকশন করেছি৷ আর এবার অভিমান একেবারে নিজের৷ ছবি বানানোও রেডি৷ কিন্তু তার পরের কাজগুলো মানে পোস্ট প্রোডাকশন, প্রোমোশন, রিলিজ এসব তো প্রথমবার করছি৷ তাতে অনেক কিছু শিখছি৷ একটা লার্নিং প্রসেস চলছে৷ ভালো লাগছে৷
ইটিভি ভারত: এই প্রথমবার আপনি, শুভশ্রী এবং বুম্বাদা একসঙ্গে৷ তারকাখচিত শিল্পী তালিকা যাকে বলে !
যীশু: আমরা যখন প্রথম প্রথম এটা নিয়ে কথা বলছিলাম যে কাস্টিংটা এরকম হলে কেমন হয়, ওরকম হলে কেমন হয়, তো যারা সেই সময় ঘরে ছিলাম, মানে আমি, সৌরভ, আইডি (ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত) সবাই বলেছিলাম যীশু, শুভশ্রী আর বুম্বাদা'র কম্বিনেশনটা হলে তো দারুণ হবে৷ শুধু তাই নয়, আমার মতে বছরের সেরা কাস্টিং হবে৷ সাধারণত এরকম কাস্টিং করা এই সময়ে দাঁড়িয়ে বেশ কঠিন৷ তবে, কখনও হয়নি তাও না৷ সৃজিতই করেছে কতগুলো ছবি৷ যেদিন এই ছবিটার জন্য বুম্বাদা আর শুভ 'হ্যাঁ' বলল সেদিন আমি আর সৌরভ খালি পায়চারি করছিলাম অফিসের ঘরে৷ এবার কী করব এই ভেবে৷ যাই হোক কাজটা হয়ে গেল৷ বুম্বাদা, শুভশ্রী, কাঞ্চন, পার্থ ভৌমিক অনেক সাহায্য করেছে আমাদের৷
ইটিভি ভারত: এতদিনের জার্নি৷ কত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন, নানা ভাষায় কাজ৷ ইন্দ্রদীপদা কোথায় আলাদা ?
যীশু: আইডির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে আমার ভালো লাগে, যে কি না সকলের সাজেশন শোনে৷ অনেকে সেটা শোনে না৷ সে যেটা করছে সেটাই ঠিক, আর সেটাই করতে হবে এটাই বলে দেয়৷ আমি বলব সেটাও ভুল না৷ সেটাও একটা কাজের পদ্ধতি৷ তবে, অভিনেতা হিসেবে কিছু ভালো-মন্দ বলার সুযোগ পেলে ভালো লাগে৷ মনে হয় নিজে যেটুকু জানি এত বছরের কেরিয়ারে, সেটা শেয়ার করলে যদি আরও কিছু ভালো হয়, তাতে আখেরে ভালো হবে ছবিটার৷ আর সেটা আইডি'র সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পেরেছি বলতে৷
ইটিভি ভারত: অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে এই ইন্ডাস্ট্রির কোথায় পার্থক্য ?
যীশু: একটাই পার্থক্য, সেটা হল বাজেট৷ তা ছাড়া আমাদের এখানকার টেকনিশিয়ানরা দারুণ৷ যে বাজেটে তাঁরা কাজ করেন সেটা অভাবনীয়৷ 12-15 দিনের মধ্যে আমাদের শুটিং শেষ করতে হয়৷ তার মধ্যে গানও হয়ে যায়৷ এরপর যে ক্যানভাসে ছবিটা আসে তা দেখার মতো৷ কম বাজেটে কামাল দেখান ওঁরা৷ আর সেখানে বাজেটটা যদি ডাবল করা যায় তা হলে মিরাক্কেল ঘটে যেতে পারে আমাদের বাংলা ছবিতে৷ তাতে অন্য ইন্ডাস্ট্রিকে ভাবতে হবে বাংলাকে নিয়ে৷
ইটিভি ভারত: বড় পর্দায় ছবি বানানোর ইচ্ছা আছে ?
যীশু: আছে, তবে কবে করব জানি না৷ আমি কোনওকিছুই প্ল্যান করে করি না৷ আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী৷ ভাগ্য যেদিন সঙ্গ দেবে সেদিন পরিচালনা করব৷
ইটিভি ভারত: বাস্তবে কারও প্রতি অভিমান আছে, যা কিছুতেই কমছে না ?
যীশু: অভিমান এমন একটা ইমোশন যেটা কাছের মানুষদের সঙ্গেই হয়৷ কাছের মানুষ না হলে সেটা রাগ হয়৷ অভিমান এমন একটা জিনিস যেটা যে কোনও একটা পক্ষ ভেঙে দেবে, সময় লাগলেও৷ আমার প্রচুর অভিমান হয়েছে৷ সৃজিতের সঙ্গেই হয়েছে৷ তারপর দুজনেই সেটা ভেঙে দিয়েছি৷ সৃজিত আমার খুব কাছের বন্ধু৷
ইটিভি ভারত: আর সৌরভের সঙ্গে ?
যীশু:: ওর সঙ্গে তো সারাদিন লেগে থাকে৷ ও আমার থেকে বয়সে ছোট৷ আমার অনেক কিছুই মেনে নেয়৷ সেটা প্লাস পয়েন্ট আমার জন্য৷ কখনও কখনও আমিও ভুল হই৷ সেই সময়ে কিছু না বললেও পরে আমাকে বলে, আমি ভুল ছিলাম৷ সৌরভ আমাকে যা চেনে অনেক মানুষ আমাকে সেভাবে চেনে না৷
ইটিভি ভারত: যীশু সেনগুপ্ত মানেই খেলাধুলো৷ সিসিএল-ও (সেলেব্রিটি ক্রিকেট লিগ) আসছে৷ প্র্যাকটিস হচ্ছে ?
যীশু: সিসিএল দেরি আছে৷ তা ছাড়া এখন খেলার সিজনও না৷ বর্ষাটা গেলে আবার প্র্যাকটিস করব৷
ইটিভি ভারত: ছোট মেয়ে তো খেলায় আগ্রহী ?
যীশু: স্কুলেই যা খেলে৷ এর বাইরে কিছু না৷
ইটিভি ভারত: দর্শক কী পাবে 'অভিমান'-এ ?
যীশু: ছবিটা কারও ভালো লাগতে পারে কারও মন্দ লাগতে পারে৷ কিন্তু ছবির লাস্ট দশ মিনিটে যেমন চোখ ছলছলও করবে, তেমনই আবার অনেকটা আনন্দ নিয়েও দর্শক বাড়ি ফিরবেন৷ আর ফেরার পর কিছুক্ষণ একা ঘরে বসে ভাববেন৷ এটুকু বলতে পারি৷