ছেলেকে চিনতেই পারেননি বিশ্বজিৎ! কেন এটা ঘটল? কী বলছেন প্রসেনজিৎ
eTV Bharat | ০২ জুন ২০২৬
কলকাতা, 2 জুন: "আকাশ চ্যাটার্জি একটা যুগ, একটা প্রজন্ম, একটা সময়ের স্বাক্ষর" - এই সংলাপেই টিজার হিট 'অভিমান'-এর৷ 19 জুন মুক্তির পথে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত, যীশু সেনগুপ্ত এবং সৌরভ দাস প্রযোজিত বাংলা ছবি 'অভিমান'। ছবিতে রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জির ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷ ছবির টিজার আরও একবার প্রমাণ দিল যে বয়স তাঁর কাছে একটা সংখ্যা মাত্র৷ রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জিকে দেখলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মনেও ঝড় ওঠে৷ কার প্রতি আজও অভিমান ভাঙেনি প্রসেনজিতের? 'অভিমান' মুক্তির আগে ইটিভি ভারতের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডায় বাঙালির কাছের মানুষ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷
ইটিভি ভারত: পদ্মশ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সবার আগে তো সকলের বুম্বাদা৷
প্রসেনজিৎ: হ্যাঁ, সবাই আমাকে এত ভালোবেসেছে, পরিচালকেরা আমাকে নানারকমের চরিত্রে ব্যবহার করেছেন, সর্বোপরি তাঁরা আমাকে তৈরি করেছেন৷ এই পুরস্কার সকলের৷ আমার একার না৷ এই পুরস্কারের কৃতিত্ব আমার মায়েরও৷ এমনকী ঋতুরও (ঋতুপর্ণ ঘোষ)। সম্মানীয় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মানটা নিয়েছি৷ আমার কাছে সবথেকে ভালো লাগার বিষয় হল, বাংলা সিনেমা করে এই পুরস্কারটা আমি আনতে পেরেছি৷
ইটিভি ভারত: রকস্টারের ইমেজে 'অভিমান'-এ দেখতে পাচ্ছি আকাশ চ্যাটার্জি হিসেবে৷ কোথাও গিয়ে আমাদের ছোটবেলাটাও মনে পড়ছে৷ এই বয়সেও নিজেকে এভাবে ধরে রাখার ম্যাজিকটা কী ?
প্রসেনজিৎ: আকাশ চ্যাটার্জি চরিত্রটা অসাধারণ, যেটা আমি করেছি৷ যীশু, সৌরভের প্রযোজনায় বড় পর্দার প্রথম ছবি এটা৷ তাই আমার কাছেও খুব স্পেশাল৷ আমি খুব এক্সাইটেড ছবিটা নিয়ে৷ খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল চরিত্রটা৷ তোমরা জানো আমি যে চরিত্রটা নিই সেটার পিছনে সময় দিতে চেষ্টা করি৷ প্রচুর পুরনো ভিডিয়ো দেখেছি রূপম থেকে অঞ্জনদা সকলের৷ কয়েকজন মানুষ মিলে এই জঁরটাকে পপুলার করে দিয়েছিল একটা সময়৷ আর সেটা অর্থপূর্ণভাবে৷ অনেক শিল্পীর জীবন থেকে, বোধ থেকে, ঘটনা থেকে কথা বেরোয়৷ কখনও আবার বেরোয় না৷ আমার জীবনেও অনেক সময় এরকম হয়েছে যে, আমি দেড়-দু বছর কাজ করিনি৷ শিল্পীদের মন আর মাথা ভালো না-হলে কিছু করতে পারে না। আকাশ চ্যাটার্জির মধ্যে একটা টানাপোড়েন আছে৷ একটা সময় সে হারিয়েও যায়৷ সব মিলিয়ে এই চরিত্রটা আর স্ক্রিপ্ট দারুণ লেগেছে৷ কাস্টিং ইন্টারেস্টিং৷ অল্প চরিত্র নিয়ে কাজ হলেও প্রত্যেকটার গুরুত্ব আছে৷ সহজ কথায় বাংলার ঘরের ছবি 'অভিমান'৷
ইটিভি ভারত: ছবিতে আপনার দুটো লুক আছে৷ কোনটা নিজের বেশি ভালো লেগেছে ?
প্রসেনজিৎ: হ্যাঁ আমার লুকটা দেখে সবাই এক্সাইটেড দেখছি৷ সবথেকে বেশি এক্সাইটেড আমার বাবা৷ তিনদিন আগে মুম্বইতে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলাম, 'পদ্মশ্রী' হাতে পাওয়ার পর৷ কেউ ওঁকে দেখিয়েছে 'অভিমান'-এ আমার রকস্টার লুকটা৷ আমাকে দেখে বাবার প্রশ্ন, "এটা কি তুমি ?" বাবার নাকি মনে হয়েছিল আকাশ চ্যাটার্জি বিদেশি কেউ৷ ওটা আমিই বলায় আমাকে জিজ্ঞেস করেন, "আচ্ছা কী করেছো এর জন্য ?..." এ আমার বড় প্রাপ্তি৷ চরিত্রটা নিয়ে আমিও এক্সাইটেড৷ ভালো ভালো গান আছে৷ দুটো লুকের উপর ওয়ার্ক করেছি আমি৷ দুটো দুরকম সময়ের৷ দুইয়ের নিরিখে দুটোই অনবদ্য৷ তবে, স্টার আকাশ চ্যাটার্জিটা ক্লিক করে গেছে৷ জেন জি'দের কাছেও পপুলার হয়েছে৷
ইটিভি ভারত: এখনও কার উপরে অভিমান পুষে রেখেছেন ? ভাঙতে পারেননি ?
প্রসেনজিৎ: অভিমান আমার প্রতি কারও থাকতেই পারে৷ আমি সেটার কারণ বুঝতে চাই৷ তা হলে সেটা কাটানোর চেষ্টা করা যায়৷ ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গেও বহুবার হয়েছে অভিমান৷ হয়তো দুই-আড়াই বছর কথাও হয়নি৷ এমনও হয়েছে যে ও আমার বাড়িতে আসছে, থাকছে, লাঞ্চও করছে৷ ওদিকে আমি শুটিঙে বেরিয়ে যাচ্ছি৷ আমার সঙ্গে ওর কথা নেই কোনও৷ তারপর অভিমান ভাঙার পরই 'চোখের বালি', 'উৎসব' হয়ে গেছে৷ অভিমান ভাঙার পরে আমরা যদি গঠনমূলক কিছু ভাবি তা হলে পজিটিভিটি বেরোয় বলে আমার ধারণা৷ অভিমান আমিও করে আছি কারওর উপরে৷ ভাঙানোর সময় সুযোগ পাচ্ছি না৷ তাকে তোমরা সবাই চেনো৷ যেদিন অভিমানটা ভাঙাব তোমায় ডেকে প্রথম বলব৷ সাংবাদিক সম্মেলন করেও বলব৷
ইটিভি ভারত: দুর্দান্ত স্টার কাস্ট এই ছবির ! টিজারে কেমন সাড়া পেলেন ?
প্রসেনজিৎ: দারুণ সাড়া পেয়েছি৷ কাকে ছেড়ে কাকে এই ছবিতে দেখবে ভাবতে হবে৷ সবাই দুর্দান্ত৷ যীশু থেকে শুভশ্রী, কাঞ্চন সবাই অনবদ্য৷ আমিও চেষ্টা করেছি৷ সকলে পরিণত অভিনেতা৷ আর তাই অভিনয়ের লড়াই আছে এখানে৷ আর ডিরেক্টরও এটাকে রেলিশ করেছেন৷ নানারকম সিনের প্যাঁচ কষেছেন৷ সংলাপের বাইরেও অনেক কিছু ঘটে গেছে ছবিতে৷ এটাই বোধহয় আধুনিক সিনেমা বানানোর পদ্ধতি আজ৷ রিহার্সাল করতে করতে পালটে যায় অনেক কিছু৷ এই ছবিতে সকলে সেটে আসত নিজের চরিত্র হয়ে৷
ইটিভি ভারত: একটা সিনেমায় অভিনয় করেই আপনি দায় সারেন না৷ রিলিজ নিয়েও ভাবেন৷ ইন্ডাস্ট্রিতে আজ ছবি৷ রিলিজ নিয়ে যে পরিস্থিতি তাতে কী ভাবছেন ?
প্রসেনজিৎ: ভালো ছবি বানাতে হবে৷ আমার এই বছরে বাম্পার হিট কাকাবাবু৷ সোনাদা'কে লোক ফাটিয়ে দেখছে আজও৷ শিবুর ফুলপিসি লোক দেখছে৷ পৃথা চক্রবর্তীর 'ফেরা'র রিপোর্টও ভালো৷ আমি খুব খুশি যে দর্শক হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখছে৷ সেলিব্রেট করছে৷ প্রত্যেকটা ছবির নিজস্ব সাকসেস মডেল আছে৷ বাংলা ছবি আমাদের ঐতিহ্য৷ আর সেই বাংলা ছবি লোক দেখতে চাইছে আজ৷ তাই আমাদের ভালো বাংলা ছবি বানাতে হবে৷ সেলিব্রেট করতে হবে বাংলা ছবিকে৷ আমার 45 বছরের সিনেমার জীবনে আমি একটাই কথা বলি 'সেলিব্রেট সিনেমা'। অধিকাংশ সময়েই আমরা সিনেমার বাইরের আলোচনা করি৷ সিনেমা নিয়ে আলোচনা করি না৷ কেউ উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ছবি বিশ্বাস, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনকে নিয়ে আলোচনা করি না৷ কেন? আমার মতে, কাজ ভালো হলে কোনও লোকের ক্ষমতা নেই দর্শককে আটকাবে৷