আইপিএলে ফের সেরা ইডেন, সুজন বলছেন 'পরিশ্রমের পুরস্কার'
eTV Bharat | ০২ জুন ২০২৬
কলকাতা, 2 জুন: যুগ্মভাবে হলেও এই নিয়ে চতুর্থবার সেরার তকমা ৷ ফের আইপিএলের শ্রেষ্ঠ স্টেডিয়ামের শিরোপা পেল ইডেন গার্ডেন্স ৷ দিন বদলায়, ক্রিকেট রুচি বদলায় কিন্তু সেরার তাজ ধরে রাখে ক্রিকেটের নন্দনকানন ৷ যদিও এই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখাটা মোটেই সহজ ছিল না ৷ সমালোচনার কাঁটা বারবার বিঁধেছিল ৷ তবু লক্ষ্যে অবিচল থেকে ফের সেরার পুরস্কার ৷
আইপিএল ফাইনালের শেষে আমেদাবাদে রবিবার সেরার পুরস্কার গ্রহণ করেন সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। পুরস্কার মূল্য 50 লক্ষ টাকা ৷ যাঁর হাতযশে এই পুরস্কার সেই কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় অবশ্যই খুশি ৷ খুশি সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও ৷ প্রশাসক হিসেবে মহারাজ প্রথম থেকেই ইডেন পিচের চরিত্র বদলের পক্ষে ৷ প্রবীর মিত্র সরে যাওয়ার পর থেকেই সুজন মুখোপাধ্য়ায়কে দায়িত্বে এনে ইডেনের পিচ এবং মাঠের চরিত্র বদলের চেষ্টা শুরু হয়েছিল ৷ ধীরগতির স্পিন সহায়ক উইকেট নয় বরং বাউন্স সমৃদ্ধ দ্রুতগতির উইকেট তৈরিই ছিল লক্ষ্য ৷ যেখানে ব্যাটার-বোলার দু'পক্ষই সাহায্য পেতে পারে ৷
সুজন মুখোপাধ্যায় বলছেন, "সৌরভ আমাকে বলেছিল প্রাণবন্ত উইকেট তৈরি করতে ৷ যেখানে উপভোগ্য ক্রিকেটের মশলা থাকবে ব্যাটার-বোলার উভয়ের জন্য ৷ আমি সেই কাজটাই করেছিলাম ৷ পিচের মাটি বদলেছি ৷ বারমুডা ঘাস লাগিয়েছি ৷ ফলে পিচ যেমন বদলেছে, আউটফিল্ডও বদলেছে ৷" এতকিছুর পরেও সমালোচনা চলেছে সিএবির অন্দরে ৷ সেই খারাপ লাগার জায়গা থেকে সেরা স্টেডিয়ামের পুরস্কার যেন নিন্দুকদের জবাব। অনুভূতি প্রসঙ্গে সুজন বলছেন, "এই নিয়ে চারবার সেরা পিচের পুরস্কার পেলাম ৷ একবার যুগ্মভাবে ৷ তিনবার এককভাবে ৷ পরিশ্রমের পুরস্কার পেলে তো ভালোই লাগে ৷"
ইডেনের পিচ মানেই খেলার আগে ও পরে আলোচনার কেন্দ্রে ৷ 2025 আইপিএলে কয়েকটি ম্যাচ হারের পর সরাসরি ইডেনের পিচকে দুষেছিলেন কেকেআর অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে ৷ তাঁর অভিযোগ ছিল, ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেট চেয়েও পাননি তাঁরা ৷ তখনও রাহানের অভিযোগ মানতে চাননি সুজন ৷ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশ মেনেই পিচ বানিয়েছেন তিনি ৷ এমনকী ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের সময়েও পিচ নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল বিস্তর ৷
কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন সুজন মুখোপাধ্যায় ৷ তাঁর সংযোজন, "গতবার কেকেআরের কোচ, অধিনায়ক ও দু’জন ধারাভাষ্যকার পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ৷ আর কেউ তো কিছু বলেননি ৷ কীরকম পিচ হবে তা নিয়ে বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে ৷ সেই নির্দেশ মেনে আমি পিচ বানাই ৷ অতীতে বানিয়েছি ৷ ভবিষ্যতেও বানাব ৷"
সিএবি আপাতত একাধিক বিতর্কে জর্জরিত ৷ প্রতিদিন কোনও না কোনও সমস্যা বা গাফিলতি সামনে আসছে ৷ এই অবস্থায় সেরা স্টেডিয়ামের পুরস্কার অবশ্যই ভালো খবর ৷ তবে মাঠ নিয়ে সমস্যা শেষ হচ্ছে না ৷ কল্যাণীতে সিএবি'র মাঠের 15 জনের মধ্যে সাতজন দায়িত্ব ছেড়েছেন কম বেতনের কথা বলে ৷ বাকিরাও ছাড়বেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ এই অবস্থায় রঞ্জি ট্রফি এবং বোর্ডের ম্যাচ কল্যাণীতে আয়োজন করা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে ৷ সুজন জানালেন, মালিদের স্বার্থের দিকটি দেখে কল্যাণীর সমস্যা নিয়ে সচিবকে জানানো হয়েছে ৷ সমাধান সূত্র দ্রুত বের হবে ৷