এই সময়, পুরুলিয়া: জেলার বালিঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। বালিঘাটের ইজারাদারদের তেমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত বালিঘাটের পাশাপাশি বিভিন্ন নদীর এমন কিছু ঘাট থেকে বালি তোলা হয়, যে ঘাটগুলি থেকে বালি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা ছাড়া যে নদীগুলিতে পানীয় জলের প্রকল্প রয়েছে, সেখানেও নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বালি তোলায় ছিল নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তা না–মেনেই নিয়মিত অবৈধ ভাবে বালি তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
জঙ্গলমহলের আড়শার বামুনডিহা গ্রামের বাসিন্দা দেবীলাল মাহাতো বলেন, ‘আমাদের গ্রামের অদূরে কংসাবতীতে একাধিক পানীয় জলের প্রকল্প রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও লাগামছাড়া ভাবে বালি তোলা হয়েছে। এলাকার মানুষ তা নিয়ে আন্দোলনে নামলেও কিছু করতে পারেননি। বালিঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি।’
বিভিন্ন মহলের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বালি নিয়ে দুর্নীতি অনেকটাই রোখা সম্ভব হবে। পথে বালি বোঝাই কোনও ট্র্যাক্টর বা ডাম্পারের থেকে পুলিশ নথি দেখতে চাইলে স্পষ্ট হবে, বালি অনুমোদিত নির্দিষ্ট ঘাট থেকেই তোলা হয়েছে কিনা। আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধি নৃপেন মাহাতো বলেন, ‘আমরা দাবি করেছি, অনুমোদিত সমস্ত ঘাটের সাইনবোর্ডে বালির দামের সঙ্গে ঘাটের নির্ধারিত সীমাও উল্লেখ করতে হবে।’
পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বালিঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সঙ্গে ঘাটের সীমানা নির্ধারণের বিষয় নিয়েও প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’ অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক পাটিল যোগেশ অশোকরাও বলেন, ‘বালিঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে।’