এই সময়, বর্ধমান: গলসির বিভিন্ন রাইস মিল ও বালিঘাটে ‘তৎকাল’ বিজেপি কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে সরব হলেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র। কোথাও দলের নাম করে, আবার কোথাও খোদ বিধায়কের নাম ভাঙিয়ে এই তোলাবাজি চলছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি এই সব অভিযুক্তদের একটি তালিকা তৈরি করে গলসি থানার ওসি কৃপাসিন্ধু ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন বিধায়ক। পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানান।
তোলাবাজদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধায়ক বলেন, ‘আমাদের দলের নাম করে, কোথাও আমার নাম করে কিছু ভেকধারী বিজেপি নেতা–কর্মী তোলাবাজি করছে। ৪ মে–র পরে তৃণমূল ও সিপিএম থেকে এসে বিজেপির গেরুয়া আবির মেখে নিজেদের বিজেপি ভেবেছে। এই তৎকাল বিজেপির লোকেরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। গলসি থানার ওসিকে বলেছি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। পুলিশকে কয়েকজনের নামও দিয়েছি আমরা।’
কী ভাবে এই তোলাবাজি চালানো হচ্ছে, তার বিবরণ দিয়ে বিধায়ক আরও জানান, কিছু বৈধ বালিঘাট ও স্থানীয় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে ব্যবসার ১০ শতাংশ শেয়ার দাবি করা হচ্ছে। এমনকী গলসির এক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর রাইস মিলে গিয়ে ‘বুলডোজ়ার’ চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজু পাত্র বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বলেছি বুলডোজ়ার চালাব। কিন্তু যাঁরা সরকারের আইন মেনে কাজ করছেন তাঁদের উপরে কেন অত্যাচার করা হবে। আমি বলেছি, যাঁরা অন্যায় ভাবে, অবৈধ ভাবে ব্যবসা করবে, তাঁদের উপরে বুলডোজ়ার চলবে। আর সেটা আমি নয়, প্রশাসন চালাবে।’
সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে রাজুর আহ্বান, ‘গলসি বিধানসভার সবাইকে অনুরোধ করছি, কোথাও কেউ জোর করলে, টাকা চাইলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। মানকর এলাকায় বুদবুদ থানার খুব কাছে বিজেপির পার্টি অফিস করা হবে বলে বৈধ জমি জোর করে দখল করার চেষ্টা চলছে। বিজেপি করলে এ সব চলবে না। বিজেপির রং গেরুয়া। সেটা ত্যাগের প্রতীক।’
একই বক্তব্য গলসি–২ ব্লকের ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি বিজয় ধারার। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিধায়কের নাম করে হুমকি দিয়ে রাইস মিল মালিকদের থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। শিল্যা ও সোদপুরের বালিঘাটগুলিতে টাকা চাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে বিজেপির বিজয় মিছিল করা হবে। গোহগ্রাম ও শিকারপুরেও এমন ঘটনা ঘটছে বলে খবর পাচ্ছি। যারা এ সব করছে, তারা বিজেপির লোক নয়।’