এই সময়, কলকাতা ও গঙ্গারামপুর: তিন সপ্তাহের গরমের ছুটির পরে সোমবার রাজ্যে খুলেছে সব সরকারি স্কুল। যদিও দেশ জুড়ে সময়ে বর্ষা না–আসায় গরমের স্থায়িত্ব বেড়েছে। তাপমাত্রা মোটের উপর স্বাভাবিকের আশপাশে থাকলেও বাংলার বিভিন্ন জেলায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে পড়ুয়াদের হাঁসফাঁস অবস্থা। সে কথা বিবেচনা করে সোমবারই মর্নিং স্কুল চালু করার জন্য বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই–প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা দপ্তরের উপসচিব।
মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল চলাকালীন গঙ্গারামপুরের মহারাজপুর ঠাঙ্গাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া, ৮ বছরের অর্ঘ্য সরকার অসুস্থ হয়ে পড়ে। ক্লাসরুমেই তার নাক থেকে রক্ত বেরোতে থাকে। শিক্ষক–শিক্ষিকারা ওই খুদে পড়ুয়াকে সঙ্গে সঙ্গে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। খবর দেওয়া হয় মহারাজপুর পাটন এলাকায় তার বাড়ির লোকজনকেও। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
অর্ঘ্যর বাবা অরূপ সরকার বলেন, ‘স্কুলে গিয়ে গরমে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তার নাক থেকে রক্ত পড়ছে দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর পরে স্কুল থেকে আমাকে খবর দেওয়া হয়।’ ওই স্কুলের শিক্ষিকা জয়শ্রী মজুমদার সরকার জানান, তীব্র গরমের কারণেই ওই পড়ুয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সরকারি নির্দেশ মেনে আজ, বুধবার থেকেই সকালে স্কুল হবে। শুধু গঙ্গারামপুর নয়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে গরমে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। বালুরঘাট–সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের গরমে অসুস্থ হওয়ার খবর সামনে এসেছে।
তবে কয়েকটি জেলার ডিআই, স্কুল সাব–ইনস্পেক্টর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব–ইনস্পেক্টররা সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে মর্নিং ক্লাসের পরামর্শ দেওয়ায় শিক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, দুপুরে যখন স্কুল ছুটি হবে, তখন সূর্য মধ্যগগনে। ফলে, ছুটির পরে বাড়ি ফেরার সময়ে পড়ুয়াদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন গরাইয়ের বক্তব্য, রুটিনের বিষয়টি পরিদর্শকদের বিবেচনা করা উচিত। আবার মিত্র ইনস্টিটিউশনের (ভবানীপুর ব্রাঞ্চ) প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলছেন, ‘আমাদের স্কুলে সকালে প্রাক–প্রাথমিক পর্যন্ত পড়ুয়ারা ক্লাস করে। একই বিল্ডিংয়ে বেলায় ক্লাস হয় পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের। বড়দের ক্লাস সকালে হওয়া মুশকিল।’
এ বছরের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রথমে ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গ্রীষ্মের ছুটি ছিল। পরে তা বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, জুন মাস জুড়েই গরমের দাপট চলবে। এই পরিস্থিতিতে বিকাশ ভবনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দার্জিলিং পাহাড় বাদে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলি আগামী দু’সপ্তাহ নিজেদের মতো রুটিন করতে পারে।