সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
এ রাজ্যে পরিকাঠামো ও সরকারি সহযোগিতার অভাব এবং সিন্ডিকেটের দাপটে কী ভাবে শিল্পপতিরা ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছেন, দুর্গাপুরের এক সেমিনারে সেই ক্ষোভ উগরে দিলেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। সোমবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর পুরসভার গেস্ট হাউস 'মাঙ্গলিক'-এ নর্থ দুর্গাপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতির তীব্র সমালোচনা করেন বিশিষ্ট শিল্পপতি পার্থ ঘোষ-সহ একাধিক ব্যবসায়ী।
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শিল্পপতি পার্থ ঘোষ অভিযোগ করেন, কারখানা সম্প্রসারণের জন্য আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থার (এডিডিএ) কাছে জমি চেয়েও তিনি পাননি। তৎকালীন সিইও তাঁর সঙ্গে কথাও বলেননি, ডিস্ট্রিক্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্টারে গিয়েও দিনের পর দিন ধাক্কা খেতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি গুজরাটে এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথ ভাবে কারখানা গড়েন। পার্থ বলেন, 'গুজরাটে সিঙ্গল উইন্ডো পদ্ধতিতে দ্রুত জমি সমেত পরিকাঠামোগত সবরকম সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে সেই কারখানায় ৯০০ কর্মী কাজ করেন। এই কারখানায় তৈরি পণ্য বিশ্বের ২৪টি দেশে রপ্তানি হয়।'
পার্থ দুর্গাপুরে কারখানা করলে এই রাজ্যের ৯০০ ছেলের কর্মসংস্থান হতো। কেন গুজরাটে যেত হলো তাঁকে? পার্থর অভিযোগ, 'দুর্গাপুরে নিয়মিত সিন্ডিকেট থেকে হুমকি আসত। পরিবর্তনের পরে কোনও হুমকি আসেনি।' রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনতে সমুদ্র বন্দর তৈরি ও কিছু ক্ষেত্রে সাবসিডি দেওয়ার জন্য বর্তমান বিজেপি সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
সেমিনারে উপস্থিত আর এক শিল্পপতি মনোজ সরাফ রাজ্যের বেহাল কর্মসংস্থানের ছবি তুলে ধরে বলেন, 'এই রাজ্যে ছোট ও মাঝারি কারখানার গেটের বাইরে লেখা থাকে নো ভ্যাকেন্সি। গুজরাটে কারখানার বাইরে লেখা থাকে ১০ জন ফিটার প্রয়োজন, পাঁচ জন মেকানিক্যাল কর্মী প্রয়োজন। আগের সরকার শুধু সিঙ্গল উইন্ডোর কথা বলেছে, বাস্তবায়িত হয়নি।' তাঁর মতে, 'আসানসোল-দুর্গাপুরকে নিয়ে স্পেশাল ইকোনমিক জোন তৈরি করতে হবে। এই শিল্পাঞ্চলে একাধিক সরকারি কারখানা বন্ধ হয়ে রয়েছে। সেই কারখানার জমি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিলে বাংলায় ফের শিল্পের জোয়ার আসবে।'
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার হেতেডোবা, গৌরবাজার এলাকার পড়ে থাকা জমি শিল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য সেমিনারে উপস্থিত বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির কাছে আবেদন জানান শিল্পপতিরা। জবাবে জিতেন্দ্র বলেন, 'এখন রাজ্যের তরফে সবরকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কাজ চায়। শিল্পপতিদের এই ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বসে কথা বলতে হবে।' আর এক বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'সিন্ডিকেট রাজ ও কারখানার গেটে শ্রমিক বিক্ষোভ বন্ধ হবে।' সেমিনারে উপস্থিত দুর্গাপুরের এক শিল্পোদ্যোগী সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় এই অঞ্চলে আইটি সেক্টরের উপরে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেন।