• ধন্দ ডেটেও, অভিষেকের বয়ান রেকর্ড করতে চায় CID
    এই সময় | ০৩ জুন ২০২৬
  • এই সময়: প্রথমে নাম, তার পর ঠিকানা এবং শেষে তারিখ ––– তৃণমূলের ‘মিটিং রেজ়োলিউশন বুকে’ এ ভাবে ১ থেকে ৭০ জন বিধায়কের পর পর সাক্ষর রয়েছে। আর ওই বিধায়কদের সই নিয়েই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তবে, শুধু সই নয়। বিতর্ক দেখা দিয়েছে বৈঠকের তারিখ নিয়েও।

    রাজ্য বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করতে ১৯ মে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠক হয়। কিন্তু, এই মর্মে বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিটিতে তারিখ উল্লেখ রয়েছে ৬ মে–র। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ওই চিঠির সূত্রে সিআইডি–র স্ক্যানারে বর্তমানে যে ১৪ জন বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম লেখা রয়েছে ‘ক্যাপিটাল লেটারে’, কারও ‘স্মল লেটারে’, কেউ আবার ‘শর্ট সিগনেচার’ করেছেন।

    সিআইডি–র কাছে কয়েকজন বিধায়ক ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, ৬ মে তাঁরা ওই রেজ়োলিউশন বুকে সাক্ষর করেননি। তাহলে তাঁদের নাম, ঠিকানা–সহ কে বা কারা সাক্ষর করেছেন? কার নির্দেশেই বা করা হয়েছে––এ সব প্রশ্নের উত্তর জানতে মরিয়া রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। এই রহস্যের কিনারা করতে আগামী ৮ জুন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করতে চান তদন্তকারী অফিসারেরা। কারণ, বিধানসভায় ওই চিঠি তাঁর প্যাডে জমা দেওয়া হয়েছিল। এ দিকে, তদন্তের প্রয়োজনে বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়ের হাতের নমুনা পেতে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন সিআইডি–র স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)–এর সদস্যরা।

    এর আগে সই–বিকৃতির তদন্ত নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ দিন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘এখন তো ‘ব্যাক–ডেটেট’ সই কালচার হয়ে গিয়েছে। এটা তৃণমূলের নতুন কর্পোরেট স্টাইল। দেখছি অনেকের ক্যাপিটাল লেটারে নাম লেখা রয়েছে। সেদিন একজন বিধায়ক বাড়ি থেকেই বেরোননি। তাঁর নামেও সই হয়ে গিয়েছে। আমরা রেজ়োলিউশনে সই করিনি, অ্যাটেন্ডেন্স খাতায় সই করেছিলাম। এটা বলতে পারি, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন দেখলে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

    তদন্তে দেখা গিয়েছে, চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সইয়ের নীচে তারিখ লেখা রয়েছে ৫ তারিখ। অথচ মিটিং হয়েছিল তার আগের দিন অর্থাৎ ৬ তারিখ। সেক্ষেত্রে আগের দিনের তারিখ উল্লেখ করে তিনি কেন সই করলেন, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। এই বিষয়েও তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সিআইডি সূত্রের খবর, সন্দেহভাজন বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের নথি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন গোয়েন্দারা। তার আগে অভিষেকের বয়ানও রেকর্ড করতে চাইছেন তাঁরা। বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, তৃণমূলের ‘মিটিং রেজ়োলিউশন বুকে’ সই করা নিয়ে অভিষেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে। সিআইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মিনিটস বা রেজ়োলিউশনের কপি জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। তার উত্তরে ৭০ জন এমএলএ-র সই করা একটা রেজ়োলিউশনের কপি পাঠানো হয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)