রাজ্যে পালাবদলের পরেই বেআইনি ভাবে ত্রাণসামগ্রী বাড়িতে বা দলীয় কার্যালয়ে মজুতের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় চলছে ধরপাকড়। এ বার সেই অভিযোগে নাম জড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের আরও এক নেতার। তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগে কুলতলির এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃত নেতার নাম কার্তিক সর্দার। কুলতলির জলাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা কার্তিকের বাড়ি থেকে ত্রাণসামগ্রী ছাড়াও কার্তুজ এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন সময়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হলেও তা হাতে পাননি অনেকেই। একাধিকবার গাড়িতে করে বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ সামগ্রী আসতে দেখলেও সেই সব জিনিসপত্র তাঁদের দেওয়া হয়নি। এমনকী, ত্রাণের জিনিস চাইতে গেলে ‘মাল না থাকার অজুহাতে’ তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ।
উঠেছে স্বজনপোষণের অভিযোগও। ঝড়ের পরে বাড়িঘরের ক্ষতি হলেও কেবলমাত্র নেতার ঘনিষ্ঠ এবং আত্মীয়দেরই ত্রিপল এবং ত্রাণ দেওয়া হতো। এই ঘটনায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হতেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এলাকার লোকজন।
কার্তিকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন এলাকার বিজেপি নেত্রী মাধবী হালদার। তিনি জানান, কার্তিক সর্দার কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সরদারের আত্মীয়। তাঁর দাবি, ত্রাণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশের ভুয়ো পোশাক উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় ধৃতের শাস্তির দাবি করেছেন বিজেপি নেত্রী। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।