টাকিতে রাজবাড়ি ‘চুরি’ ! ভিটে হারিয়ে পথে রাজ পরিবার, কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা ফারুক গাজি
News18 বাংলা | ০৩ জুন ২০২৬
শরীরে রাজরক্ত। টাকি রাজবাড়ির সদস্য। সেই রাজবাড়িই তৃণমূলের দখলে। বাংলায় বিজেপি আসতেই আবার ঘরে ফেরা। স্মৃতিতে জমাটবাঁধা সন্ত্রাস। জমি চুরি…চাকরি চুরি…ত্রিপল চুরি। এমন অভিযোগ শোনা যায় ভুরি ভুরি। এবার একেবার রাজবাড়ি চুরির অভিযোগ। আমাকে জোর করে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে বলে তুমি লেখো।পরে আমার স্ত্রী আমার ছেলেকে জোর করে ঘিরে ধরে, এইরকম দুষ্কৃতীরাজ যখন চলছে আমাকে ইছামতীর পাড়ে টাকি রাজবাড়ি।
রাজ-কাহিনী:
তখন মোঘল আমল। ইছামতী তখনও ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত হয়ে ওঠেনি। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য। রুখে দাঁড়িয়েছিলেন মোঘলদের বিরুদ্ধে। বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন যশোরের রাজা। সেই বীরগাথার ইতিহাস মেখেই দাঁড়িয়ে আছে ভাঙাচোরা এই টাকি রাজবাড়ি। এই রাজারই বংশধর হলেন প্রবীর রায় চৌধুরী।
টাকি রাজবাড়ি। তারপাশেই নিজের জমিতে ঘর বানিয়েছিলেন। অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় সেই বাড়িই লুট। জোর করে কেড়ে নেওয়া হয় বাড়ি। অভিযোগের কেন্দ্রে তৃণমূল নেতা ও টাকি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজি।
আরও পড়ুন– রাশিফল ৩ জুন, ২০২৬: দেখে নিন আপনার আজকের দিন নিয়ে কী জানাচ্ছেন জ্যোতিষী চিরাগ দারুওয়ালা
প্রবীর রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘আমাকে জোর করে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে বলে তুমি লেখো। পরে আমার স্ত্রী আমার ছেলেকে জোর করে ঘিরে ধরে, এইরকম দুষ্কৃতীরাজ যখন চলছে আমাকে ৷’’
তবে আবেদন, নিবেদন, ভিক্ষা। কোনও কিছুতেই চিঁড়ে ভেজেনি। সাধের বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়িতেই দিন কাটিয়েছে টাকির রাজ পরিবার। স্থানীয়রা বলেন, তৃণমূল জমানায় টাকি জুড়ে ফারুকের অলিখিত শাসন। গরীবের টাকা লুট। জমি লুট। অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। অভিযোগ, সেই টাকাতেই রাজমহল। রিসর্ট। হোটেল ব্যবসা। ইছামতীর পাড়ে বিলাসবহুল রিসর্ট। দুর্নীতির রাজমহল। BLO থেকে জেলা শাসক, বাড়ি ফেরানোর আবেদন নিয়ে সবার দুয়ারেই গিয়েছেন রাজার বংশধর। কিন্তু ফারুকের ভয়ে সবাই কাঁটা। কোনও দুয়ারেই বিচার পাননি। তৃণমূল সরতেই ‘ভয় আউট…ভরসা ইন’। সাতবছর পর নিজের ভিটে ফিরে পেলেন রাজবাড়ির সন্তান।