কাঁটাতার পেরিয়ে সাড়ে ৩ বছর আগে ঢুকেছিল, কুলতলিতে আটক ১৮ জন বাংলাদেশি
আজ তক | ০৩ জুন ২০২৬
অবৈধ ভাবে ভারতে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের ডিপোর্ট করার কাজ চলছে জোর কদমে। ইতিমধ্যেইবহু বাংলাদেশি নাগরিককে পাঠানো হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে ধরা পড়ল ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে কুলতলি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে থানার অন্তর্গত গোদাবর এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
দালালদের সাহায্যে কাঁটাতার পেরিয়েছিল
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, দালালদের সাহায্যে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল তারা। এরপর বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে ছড়িয়ে পড়েন। ধৃতদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে কুলতলি ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
নতুন রাজ্য সরকার বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, চিহ্নিত বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক করে প্রথমে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে। পরে সমস্ত নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গত সাড়ে ৩ বছর ধরে কুলতলিতে বাস করছিল
পুলিশের দাবি, কুলতলিতে আটক হওয়া এই ১৮ জন গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবেও কাজ করত। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তারা স্থানীয়ভাবে বসবাস করলেও বৈধ নথিপত্রের অভাব এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে
মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুলতলি থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। এরপর সন্দেহভাজনদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাদের পরিচয় এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, প্রত্যেকের পরিচয় যাচাই না করে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ধৃতদের নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখান থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে একাধিক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। সীমান্তবর্তী জেলা থেকে শুরু করে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকাতেও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে। প্রশাসনের দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।