পুলিশের জালে কলকাতা পৌরনিগমের আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ জুন ২০২৬
সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারির ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রথমে গ্রেপ্তার হন কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে। এরপর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সচিন সিংকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন অভিযোগে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে আসছিল। অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকারের আমলে এসব অভিযোগ সামনে এলেও সেভাবে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তারির ঘটনা সামনে আসছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরিজিৎ দাস ঠাকুরের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে গড়ফা থানার পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন অরিজিৎ। তিনি দক্ষিণ শহরতলির পরিচিত তৃণমূল নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের ছেলে বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। যদিও সেসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আগে কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর সামনে আসেনি। এবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ার পর পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেই গ্রেপ্তার হওয়া কাউন্সিলর সচিন সিংয়ের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডের দাবি, ২০২১ সালের ৪ মে সচিন সিং ও তাঁর অনুগামীরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। সেই মামলার তদন্তেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এখনও নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে আগামী দিনে গ্রেপ্তারির তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর, তদন্তের জালে আর কারা ধরা পড়েন এবং এই ঘটনাগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়।