• বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারে টান, আকালের বাজারে সোনা বিক্রি RBI-এর! ব্লুমবার্গের রিপোর্টে চাঞ্চল্য
    প্রতিদিন | ০৩ জুন ২০২৬
  • ১৯৯১ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার পুনরাবৃত্তি ভারতে! বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার বাঁচাতে আবারও বিক্রি করতে হল দেশের সোনা? ইরানের যুদ্ধের মাঝেই সম্প্রতি সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারের পতন রুখতে সরকারি স্বর্ণভাণ্ডারের একটা অংশ বিক্রি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। যদিও সরকার বা আরবিআই কোনও তরফেই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানির খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এদিকে ডলারের তুলনায় টাকার দামও সেঞ্চুরি পারের মুখে। বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার বাঁচাতে দেশবাসীকে একাধিক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। যেখানে আগামী এক বছরের জন্য সোনা কেনা, বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই ব্লুমবার্গের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সরকারের তরফে সোনায় আমদানি শুল্ক বাড়ানো সত্ত্বেও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত স্বর্ণভাণ্ডার কমেছে। যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় সরকার অর্থিক ধাক্কা সামলাতে সোনা বিক্রির পথে হেঁটেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, সঞ্চিত কত সোনা বিক্রি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক? জানা যাচ্ছে, বিক্রিত সোনার মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে যা এক লক্ষ কোটির বেশি।

    রিপোর্টে ভারতের আর্থিক চাপের বিষয়টি বিশদে তুলে ধরে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ অনেকখানি কমেছে। এর উপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ভারতের জন্য গোদের উপর বিষফোঁড়া। আর্থিক চাপের জেরে টাকার দর কমতে থাকা ভারতের অর্থনীতির জন্য আরও বেশি উদ্বেগের। এই সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই সোনা বিক্রির পথে হেঁটেছে আরবিআই। যার লক্ষ্য দেশের বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার অটুট রাখা। ব্লুমবার্গের দাবি অনুযায়ী, গত ২২ মে শেষ হওয়া সপ্তাহ ও তার ঠিক আগের সপ্তাহ মিলিয়ে দু’দফায় দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণভাণ্ডার কমেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের।

    অবশ্য দেশের স্বর্ণভাণ্ডার বিক্রির ঘটনা এই প্রথমবার নয়, ১৯৯১ সালে চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও একই ঘটনা ঘটেছিল। বিরাট আর্থিক চাপ সামলাতে গোপনে বিমানে করে দেশের সরকারি স্বর্ণভাণ্ডারের ৪৭ টন সোনা পাঠানো হয়েছিল ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডে। এর কয়েকদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ২০ তন সোনা পাঠানো হয় সুইৎজারল্যান্ডে। সরকারের এই কীর্তি সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় দেশে। যার জেরে ভরাডুবি হয় চন্দ্রশেখর সরকারের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)