• ইস্তফাই দিলেন তামিলনাড়ুতে বিজেপির পোস্টার বয় আন্নামালাই
    বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  দিল্লি এসে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তামিলনাড়ু বিজেপির সবথেকে উজ্জ্বল এবং জোরালো মুখ কে আন্নামালাই। বিজেপির পক্ষে বিষয়টি যথেষ্ট বড় ধাক্কা। ভোটের আগেও আন্নামালাই ছিলেন দলের তামিলনাড়ু রাজ্য সভাপতি। নির্বাচনের কিছু আগে হঠাৎ তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী প্রার্থীও করা হয়নি। দলের সভাপতি করা হয় নায়নার নাগেন্দ্রনকে। তারপর থেকেই আন্নামালাইয়ের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়।

    একজন প্রাক্তন সভাপতি দল থেকে পদত্যাগ করছেন— বিজেপির কাছে সাধারণভাবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথাই নয়। কিন্তু প্রাক্তন আইএএস অফিসার আন্নামালাই বিগত কয়েক বছরে হয়ে উঠেছিলেন তামিলনাড়ু বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা। তাঁর আগ্রাসী প্রচার, সাংগঠনশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার জেরে তিনিই হয়ে ওঠেন তামিলনাড়ুতে বিজেপির প্রাণভোমরা। কিন্তু এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বিতীয়বার জোট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আন্নামালাইয়ের সঙ্গে প্রথমে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সংঘাত শুরু হয়। এরপর সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় নির্বাচনের প্রচার কমিটির শীর্ষ সারি থেকেও। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে সার্বিকভাবে মেনে নেননি তিনি। বলেছিলেন, এই রাজ্যে দলের শক্তি বৃদ্ধির জন্য তামিল অস্মিতা অনেক বেশি জরুরি। কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করা হয়নি। নির্বাচনে বস্তুত বিজেপি এবং এআইএডিএমকে জোট মুখ থুবড়ে পড়ে। নরেন্দ্র মোদির একক প্রচার কোনো কাজেই আসেনি। আন্নামালাই  মঙ্গলবার দিল্লি এসে বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং ইস্তফা দিয়েছেন।

    জানা যাচ্ছে, তিনি নিজের নতুন দল গঠন করবেন। অন্যদিকে বিজেপির জোড়া শক্তি ক্ষয় হয়েছে। কারণ যে দলের সঙ্গে বিজেপি জোট করেছিল, সেই এআইএডিএমকে একপ্রকার ভাঙনের মুখে। সিংহভাগ বিধায়ক সমর্থন করেছেন বিজয়ের সরকারকে। এখন আরও বিধায়ক বিজয়কে সমর্থনের কথা জানিয়ে সরাসরি ওই দলেই যোগ দিতে চাইছেন। সুতরাং বিজেপি দিশাহীন হয়ে যাবে। সেই কারণে এখন থেকে বিজেপি চেষ্টা করছে ডিএমকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে। কিন্ত ডিএমকের একাংশ রাজি হলেও একটি পক্ষ বিজেপির সঙ্গে দলের যোগসূত্র চাইছে না। 
  • Link to this news (বর্তমান)