৩১৩ কোটি বরাদ্দে উত্তরের চা বাগানে কাজ শুরু, জানালেন সাংসদ রাজু বিস্তা
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অসম মডেলকে সামনে রেখে চা বাগানের বেহাল অবস্থা ফেরানোর পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে ৩১৩ কোটি টাকা বরাদ্দকে কাজে লাগিয়ে সব চা বাগানের হাল ফেরানোর লক্ষে কাজ শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সহ চা বাগান অধ্যুষিত একাধিক জেলার বিধায়ক, সাংসদ, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরে এমনটাই জানালেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা।
এদিন সাংসদ ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পাল, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা। ছিলেন রাজগঞ্জের দীনেশ সরকার, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি সহ একাধিক জেলার জেলাশাসক সহ অন্যান্য আধিকারিক।
দার্জিলিংয়ের সাংসদের দাবি, কেন্দ্র আগের তৃণমূল সরকারকে চা বাগানের উন্নয়নের জন্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা কোনো কাজে লাগায়নি পূর্বতন সরকার। এবারে পড়ে থাকা ৩১৩ কোটি টাকা কাজে লাগানো হবে। অসমে যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ৬০০ কোটি টাকা চা বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে সকলের মান উন্নয়ন করা হয়েছে। এই রাজ্যেও একইভাবে কাজ করা হবে। উত্তরবঙ্গের তিনশোর বেশি চা বাগানের জন্য একই মডেলে কাজ শুরু করা হয়েছে।
সাংসদ বলেন, চা বাগানে মোট ৩ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ৩১ শতাংশই মহিলা কর্মী। সকলের উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজের জন্য নোডাল এজেন্সি হিসাবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরকে রাখা হচ্ছে। একটি রাজ্যস্তরের কমিটিও গঠন করা হবে। সাংসদের আরও দাবি, চা বাগানের জমিতে হোটেল তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিগত সরকারের সময়ে বেশিরভাগ চা বাগানগুলিতে বোনাস নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। ৫০-এর বেশি চা বাগান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি। তবে এবারে সেগুলি খোলার কাজ শুরু করা হবে। কো-অপারেটিভ দিয়ে কাজ করানো হবে।
সাংসদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে চা বাগানের উন্নয়ন কিছুই হয়নি। এই সরকারের সময়ে আমরা চা শ্রমিক থেকে শুরু করে বাগানের সঙ্গে যুক্ত সকলস্তরের উন্নয়নে কাজ করা হবে।