প্রশাসনের নির্দেশ সত্ত্বেও ১২০০ টাকায় মিলছে না বালি, স্থানীয়দের বিক্ষোভে খাদান বন্ধ, পাশে বিরোধীরা
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রশাসনের নির্ধারিত দামে আবাস যোজনার উপভোক্তারা বালি পাচ্ছেন না। এমন অভিযোগে বড়জোড়ার একটি খাদান বন্ধ করে দিলেন স্থানীয়রা। সোমবার বিকেল থেকে দামোদর নদের ওই খাদানে গণ্ডগোল শুরু হয়। এলাকার মানুষের সঙ্গে খাদানের কর্মীরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, প্রশাসন দাম বেঁধে দেওয়ার পর কয়েকজনকে কম দামে বালি দেওয়া হলেও তা নির্মাণকাজে ব্যবহারের অযোগ্য। স্থানীয়দের বাধায় মঙ্গলবার দিনভর ওই খাদান থেকে বালি বিক্রি হয়নি।
জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বালির অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। বাঁকুড়ায় আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য ট্রাক্টর প্রতি ১২০০টাকা বালির দাম বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তার আগে জেলায় এক ট্রাক্টর বালির জন্য পাঁচ-ছ’হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল। ফলে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির বিধায়করা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। জেলা প্রশাসন ও ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বিধায়করা বৈঠক করেন। তারপরই প্রশাসনের তরফে বালির দাম বেঁধে দেওয়া হয়। দাম নির্ধারণের আগে খাদান মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে প্রশাসন। তারপরও খাদান মালিকরা নির্দেশ অমান্য করায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
দামোদর-তীরবর্তী দুবরাজপুর গ্রামের সুজিত ঘোষ, ভৈরবপুরের স্বপনকুমার বাগদি বলেন, গ্রাম লাগোয়া খাদান থেকে টনটন বালি কলকাতা ও ভিনজেলায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এলাকার বাসিন্দাদের চড়া দামে বালি কিনতে হচ্ছে। ১২০০টাকায় যে বালি দেওয়া হচ্ছে, তাতে মাটির ভাগ বেশি থাকছে। সেটা দিয়ে বাড়ি তৈরি করা যায় না। কিন্তু খাদানের কর্মীরা জানিয়ে দেন, ওই টাকায় ভালো বালি দেওয়া যাবে না। এরপরই স্থানীয়রা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের চাপে খাদান থেকে বালি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, আন্দোলনের নামে উত্তেজিত লোকজন খাদানের সিসি ক্যামেরা সহ অন্য সামগ্রী ভাঙচুর করেছে। সেকারণে আমরা খাদান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সিপিএমের বড়জোড়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুজয় চৌধুরী বলেন, বালি খাদান থেকে ওভারলোডেড ট্রাক-ডাম্পার চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। বালির অতিরিক্ত দামও নেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে আমরা খুব তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামব। বড়জোড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি বিবেকানন্দ কেওড়া বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছি। বড়জোড়ার বিজেপি বিধায়ক বিল্বেশ্বর সিনহা বলেন, প্রশাসনের নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত টাকা আবাসের উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। আধিকারিকদের বিষয়টি দেখতে বলব। বড়জোড়ায় দাঁড়িয়ে পে লোডার। -নিজস্ব চিত্র