লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পুরুষ তৃণমূল কর্মীর অ্যাকাউন্টে!
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, বোলপুর: বছরের পর বছর মহিলার প্রাপ্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকছে তৃণমূল কর্মীর অ্যাকাউন্টে। ঘটনা জানাজানি হতেই ইলামবাজারে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে ওই তৃণমূল কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ছে। অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে। ইলামবাজারের বিডিও ঋদ্ধিবান চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যে পালাবদলের পরই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রকল্পে প্রচুর ভুয়ো উপভোক্তা ঢুকে রয়েছে। পুরুষদের নামেও সরকারি অনুদান গিয়েছে বলে তিনি জানান। রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করেছে। তারপরই তৎপর হয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় অনিয়ম সামনে আসছে। ধরপাকড়ও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইলামবাজারের বাসিন্দা দীপালি ভক্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে সরকার টাকাও দিচ্ছে। কিন্তু বছরের পর বছর তাঁর অ্যাকাউন্টে এক টাকাও পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ। সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের নজরে পড়ে। এমনকি, তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দীপালিদেবীর পরিবর্তে একই এলাকার বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী বাবু সাহানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা পড়ছিল। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছরে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের একাংশের অনুমান, প্রভাব খাটিয়ে উপভোক্তার ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করে এই অনিয়ম করা হতে পারে। যদিও কীভাবে এই ‘জালিয়াতি’ হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেকারণে পুরো নথিপত্র খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
প্রশাসনের তৎপরতায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমা হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তা দীপালি ভক্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ওই টাকা পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। দীপালিদেবী বলেন, আমরা চাষবাস করে সংসার চালাই। কীভাবে এসব হল বুঝি না। কেন টাকা পাচ্ছিলাম না, সেটাও বুঝতে পারিনি। এখন টাকা পেয়েছি। যারা অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযুক্ত বাবু সাহানি বলেন, গতবছর ডিসেম্বর মাসে আমার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছে বলে বুঝতে পারি। এরপর তৎকালীন বিডিওকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তারপর নির্বাচন পর্ব শুরু হয়ে যায়। তাই আর বিষয়টি এগয়নি।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের সবাই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কীভাবে একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে? যারা এসব করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।