উত্তরপাড়ায় অটো ও টোটো স্ট্যান্ড উচ্ছেদ রেলের, বিকল্প না থাকায় দুর্ভোগ মানুষের
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়ায় রেলের জবরদখল উচ্ছেদের পরে স্থানীয় এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মাখলা সহ উত্তরপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় যাতায়াতের জন্য রেল স্টেশনের কাছেই টোটো ও অটো স্ট্যান্ড ছিল। জবরদখলের অভিযোগে সেই স্ট্যান্ডও তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করেনি। ফলে অটো-টোটোর অভাবে বিপাকে পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে উত্তরপাড়ার বড়ো অংশের বাসিন্দারা। নাগরিকদের অনেকেরই দাবি, রেলের জায়গা থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই যোগাযোগের মাধ্যমকে নষ্ট করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনাহীন কাজের জন্য নাগরিকদের গুণাগার দিতে হচ্ছে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মাখলার দিকের বহু পুরানো ওই অটো ও টোটো স্ট্যান্ডের চালকরা রুজি-রুটির দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় রেলপুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের ভোগান্তির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের পরিকল্পনার অভাব ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বুলডোজার চালাতে এতই মরিয়া যে, নাগরিকদের সমস্যার কথা তাঁর মাথায় আসছে না। আমি নাগরিক হিসাবে জবরদখল বা উচ্ছেদ নিয়ে কথা বলব না। কিন্তু জবরদখল তুলতে গিয়ে অটো-টোটো স্ট্যান্ড তুলে দিয়ে সাধারণ মানুষের কী সুবিধা হল? বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করে তবেই ওই স্ট্যান্ড তোলা উচিত ছিল। কিন্তু সেসব কথা প্রশাসন বা বিধায়ক কেউই ভাবেননি।
ভদ্রেশ্বর থেকে প্রতিদিন ব্যবসার কাজে উত্তরপাড়ায় আসেন শ্যামল পাল। তিনি বলেন, সোমবার থেকে মাখলা, ডানকুনির রাস্তায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মঙ্গলবার তো যেতেই পারিনি। কারণ, টোটো-অটো স্ট্যান্ড রেলদপ্তর তুলে দিয়েছে। রেল তাদের কাজ করেছে, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন গণপরিবহণের একমাত্র অবলম্বন নিয়ে ভাবছে না কেন? জনসাধারণের কথা না ভেবে শুধু বুলডোজার চালিয়ে কী হবে? সিপিআই (এমএল)-এর উত্তরপাড়া জোনের সম্পাদক সৌরভ রায় বলেন, পরিকল্পনাহীন অমানবিক উচ্ছেদকে উৎসাহ দিচ্ছে বিজেপি। তাতে উত্তরপাড়ায় পরিবহণ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের কিছু যায় আসে না। উত্তরপাড়ার অটো-টোটো নিয়ে নাগরিক ভোগান্তি সেকথাই প্রমাণ করছে।
এনিয়ে বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বেআইনিভাবে কোনো অটো-টোটো স্ট্যান্ড চলবে না। চালকদের বলব, আপনারা বিকল্প জায়গা খুঁজে দিন, আমরা সেখানে স্ট্যান্ড করব। দশজন মানুষের সুবিধার জন্য হাজার মানুষের সমস্যা করতে দেব না। উল্লেখ্য, গত শনিবার উত্তরপাড়া স্টেশন লাগোয়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান করেছে রেল। কোন্নগর রেল স্টেশন এলাকায় আগামী ৯ জুন উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যেই উত্তরপাড়ায় গণপরিবহণ নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। স্টেশন বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের সুবিধা হারানোয় নাগরিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিজস্ব চিত্র