• উৎসাহী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সিডি ব্লকের ২৮ কাঠা সরকারি জমিতে পরিকল্পনা, প্রথম সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল পাচ্ছে সল্টলেক
    বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
  • বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল ঢেলে সাজার পরিকল্পনা নতুন বিজেপি সরকারের। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেখানে সরকারি কর্মসূচিতে এসেছিলেন। তারপর হাসপাতালের উন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয় চর্চা। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালটির উন্নতিতে শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। জানা গিয়েছে, বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালটি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। 

    এই ভবনের উল্টোদিকে সিডি ব্লকে রাস্তার উপর বড়ো জমি আছে হাসপাতালটির। সেখানেই পরিকল্পনা রূপায়ণ সম্ভব বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর। এই কাজ শেষ হলে উপনগরী তৈরির পর প্রথম সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ পাবে সল্টলেক। ইতিমধ্যেই এখানে হার্টের চিকিৎসার ক্যাথল্যাব বসানোর পরিকল্পনা হয়েছে। হাসপাতাল বাড়িতে ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন করা সম্ভব কি না জানতে চেয়ে পূর্তদপ্তরকে চিঠি পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন সল্টলেকের বিশিষ্ট নাগরিকরা। প্রবীণ নিউরোলজিস্ট ও বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের প্রাক্তন অধিকর্তা ডাঃ তৃষিত রায় বলেন, ‘আমাদের মতো প্রাক্তন সরকারি কর্মী-আধিকারিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররা এমন হাসপাতাল চান, যেখানে বিলাসিতার দরকার নেই। কিন্তু প্রথম সারির চিকিৎসা এবং ভালো ব্যবহার যেন মেলে।’ জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ ও এক্স অফিসিও সেক্রেটারি প্রবীরকুমার দত্ত বলেন, ‘ক্যান্সার সহ বিভিন্ন বিভাগের আধুনিক পরিষেবাও থাকুক এখানে।’

    সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন রজ্যের মন্ত্রী ও বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যদপ্তর চাইলে এখানে মেডিকেল কলেজ গড়া সম্ভব একথা জানানো হয়েছিল তাঁকে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘মহকুমা হাসপাতালের অধীনে সরকারি জমি আছে। কিন্তু তা বেদখল হয়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালটির উন্নতি চান। দ্রুত ওঁর সঙ্গে দেখা করে হাসপাতাল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।’ এছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘বিধাননগরবাসীর স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী  এখানে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল করতে চাইছেন।’

    তৃণমূল জমানায় ২০১৬ সালে মহকুমা হাসপাতালটির উল্টোদিকে সিডি ব্লকে রাস্তার উপর চারটি (৯১-৯৪) এবং রাস্তা থেকে একটু এগিয়ে আরও একটি প্লট (১৯২) হস্তান্তর করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ কাঠা জমি আছে হাসপাতালের অধীনে। কিন্তু এই পাঁচটি প্লটে আবর্জনা ফেলা হত। তাই বিধাননগরের এক তৃণমূল নেত্রী সেখানে ফুলের নার্সারি বসানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রয়োজনে নার্সারি তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ১০ বছর কেটে গেলেও সরকারিভাবে জমিতে কিছু করা হয়নি। মঙ্গলবার দেখা গিয়েছে, সবুজ রঙের শামিয়ানায় নার্সারিটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে। রীতিমতো মুড়ে ফেলা হয়েছে সরকারি জমি। তবে প্লটগুলি যে সরকারি সে সংক্রান্ত সাইনবোর্ড বহাল আছে। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ পার্থপ্রতিম গুহ বলেন, ‘সরকার যেমনভাবে চাইবে সেভাবে হাসপাতালের উন্নতির চেষ্টা করব।’ 

    রাজ্যের ৪৩টি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের বড়ো অংশই বিভিন্ন মহকুমা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় হয়েছে। ১০০ বেডের এই মহকুমা হাসপাতালে ১২টি বিভাগ, ৬ বেডের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও ৫ বেডের ডায়ালিসিস ইউনিট আছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)