ধৃত তৃণমূল নেতাদের জেলে চাই ভিআইপি আদর! নাকাল পুলিশ
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: রাজপাট গিয়েছে। কিন্তু এতদিনের রাজকীয় অভ্যাস কি এত সহজে ছাড়া সম্ভব? পুলিশের লকআপে তাই কারও চাই ঠান্ডা জল। কারও দাবি, বাড়ির রান্না করা খাবার চাই। গরম বলে কারও কারও পাখার হাওয়ায় অস্বস্তি কাটে না। কেউ দিনে চারবার স্নান করে শরীর ঠান্ডা রাখতে চান। বিভিন্ন মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতাদের গাদাগুচ্ছের বায়নায় তিতিবিরক্ত পুলিশ মহল। বারাসত থেকে বসিরহাট, একাধিক থানায় চলছে জোর আলোচনা।
গত কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসা, তোলাবাজি, হামলা চালানো, দুর্নীতি ইত্যাদি একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা ও জনপ্রতিনিধি। তাঁদের অনেকে এখন পুলিশি হেফাজতে। গারদের সেই অন্দরমহল থেকেই উঠে আসছে একের পর এক বিশেষ চাহিদার খবরাখবর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক নেতা থানার খাবার খেতে চাইছেন না। কেউ সরাসরি বাড়ির রান্না করা খাবারের আবেদন জানিয়েছেন। কারও বক্তব্য, বাইরের খাবার বা থানার খাবারে মোটেও অভ্যাস নেই। আবার কোথাও ঠান্ডা জল পান করতে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে পুলিশের কাছে। আবার বহু ক্ষেত্রে গরমে অস্বস্তি হচ্ছে বলে পাখার স্পিড বাড়ানোর কথা বলছেন অনেকে। কেউ কেউ দিনের মধ্যে একাধিক বার স্নান করছেন। জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, জেরা, আদালতে তোলা, নিরাপত্তা, এসব তো রয়েছেই। তার সঙ্গে এখন এই ধরনের আবদারও শুনতে হচ্ছে। কেউ খাবার নিয়ে অসন্তুষ্ট, কেউ জল নিয়ে, কেউ আবার গরম নিয়ে। তবে অভিযোগ যেমনই হোক লকআপের নিয়ম সব অভিযুক্তের জন্য এক। পুলিশের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনাগুলি নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রায় একই ধরনের আবদার বিভিন্ন জায়গা থেকেই উঠে আসছে। আর সামনে আসছে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বলয়ে থাকা রাজনৈতিক জীবনের বিলাসবহুলতার ছবি।
গত দেড় দশকে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা, ব্লক থেকে জেলা, বিভিন্ন স্তরে দলের বহু নেতা-নেত্রী স্থানীয় ক্ষমতার মুখ হয়ে উঠেছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছিল তাঁদের সামাজিক গুরুত্ব। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে থাকতে থাকতে অধিকাংশের জীবনযাত্রা গিয়েছে বদলে। তাঁরা হয়ে উঠেছেন স্বঘোষিত ভিআইপি। ফলে সর্বক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের কাছে বিলাসিতা তা তাদের অভ্যাস ছিল। বা ক্ষমতায় আসার আগে যে নেতাদের কাছে সাধারণ জীবনযাপনই ছিল অভ্যাস, সেই অভ্যাস এখন গিয়েছে বদলে। এখন বিলাসবহুল জীবনযাপনই নয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে সেই অভ্যাসেই ছেদ পড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে আবদার। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, ওই নেতারা আজ অভিযুক্ত। ওঁদের উপর বাড়তি নজর রয়েছে। তাই বাইরের খাবার ওঁদের কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমস্যা বাড়বে। সবমিলিয়ে তৃণমূল নেতারা এখন মামলার কথা গিয়েছেন ভুলে। এখন কমফোর্ট জোন পেতে করছেন হাপিত্যেশ।