বাংলায় থমকে থাকা ১০ হাজার কোটির রেল প্রকল্পে ছাড়, আসছেন স্বয়ং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী, বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: বাংলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আসতে চলেছে! গত ১৫ বছরে রাজ্যে থমকে ছিল ১৫০টির বেশি রেল প্রকল্প। অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতায় এগয়নি প্রকল্পের কাজ। অবশেষে থমকে থাকা সেই ১০ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। সৌজন্যে রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। আগামী ৬ জুন, শনিবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! ওই দিন নবান্নে আসছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এতদিন লাল ফিতের ফাঁসে আটকে থাকা প্রকল্পগুলি চালু করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করবেন তিনি। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে বিধায়ক-সাংসদদের। পূর্ব রেল, দক্ষিণ পূর্ব রেল, নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেল এবং কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার সহ শীর্ষ আধিকারিকরা বৈঠকে হাজির থাকবেন।
রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘মূলত জমি জটে আটকে রয়েছে একশোর বেশি রেল প্রকল্প। তাছাড়া, বহু ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকারের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ ছিল। স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও রেলের সঙ্গে চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হয়েছে। এসব কারণে সারা দেশে রেলের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি বাংলা। রেল ওভারব্রিজ, সেতু, আন্ডারপাস, স্টেশনের পরিকাঠামো সংস্কারের কাজ পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, রেলের তরফে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের কাছে বিভিন্ন কাজের অনুমোদন চেয়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে চিঠি আসত। নবান্নের শীর্ষ মহলের নির্দেশে সেই চিঠির উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, প্রাপ্তি স্বীকার পর্যন্ত করা হত না। উদাহরণ দিয়ে ওই আমলা বলেন, ‘প্রাক্তন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু ১৩ বছর আগে নবান্নে গিয়ে মমতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলির জট ছাড়াতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকার। বাংলার মানুষ এবার তারই সুফল পেতে শুরু করবেন।’
সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে যাত্রীবাহী ট্রেনকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হচ্ছে। ডানকুনি-সুরাত ফ্রেইট করিডর নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পণ্য পরিবহণ রেলপথ তৈরি হয়ে গেলে বাংলার শিল্প মানচিত্রে বিরাট ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিগত তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পে ইচ্ছাকৃত জটিলতা তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। এরকম গুচ্ছ গুচ্ছ প্রকল্পের জট শনিবারই কেটে যাবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে মুখ্যসচিব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রেলকে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন।