• আজ দপ্তর বণ্টন শুভেন্দু মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের
    বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন ৩৫ জন নয়া সদস্য। সোমবার লোকভবনে শপথ গ্রহণের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত টেনশন। কোন দপ্তর মিলবে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর জল্পনা। আজ, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় নবান্নে বসবে মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেখানেই দপ্তর বণ্টন চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে চলেছে বিস্তর টানাপোড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য শপথ নেওয়া একাধিক ক্যাবিনেট সদস্য বলেন, ‘দপ্তর বণ্টনের বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু জানানো হয়নি। আমাদের বলা হয়েছে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। সেখানেই দপ্তর বণ্টন করা হবে।’ সূত্রের খবর, দপ্তর বিলি নিয়ে শেষ মুহূর্তে আসরে নেমেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। রাজ্য মন্ত্রিসভায় নিজেদের রাশ নিশ্চিত করতে সংঘের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিত মন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। এই আবহে এদিন হঠাৎ দিল্লিতে ডাক পড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভার স্পিকার রথীন বসু এবং বঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর। মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বণ্টন ও তৃণমূল কংগ্রেসের আসন্ন ভাঙন নিয়ে তাঁরা গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেছেন সর্বভারতীয় নেতাদের সঙ্গে।

    বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সন্দীপন সাহারা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তাই দপ্তর বণ্টনে আমরা আরও বেশি সতর্ক হতে চাইছি। অনেকদিক বিবেচনা করে দপ্তর বিলি করা হবে। আরএসএসের মতামত নিয়ে শমীকবাবু দিল্লি গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীও নিজের পছন্দ ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে আরও একটি তালিকা তৈরি করেছেন। সেগুলি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লি।’ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে খড়দহের বিধায়ক কল্যাণ চক্রবর্তীকে নিয়ে। আরএসএসের তৃতীয় বর্ষের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই স্বয়ংসেবককে শিক্ষাদপ্তরের মাথায় বসানোর পক্ষে সওয়াল করছে সংঘ পরিবার। আবার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনীকে কৃষিমন্ত্রী করার জন্য তদবির করা হচ্ছে প্রশাসনের একটি মহল থেকে। একইভাবে অর্থ, পূর্ত, শিল্প, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পরিবহণ সহ বড়ো বড়ো দপ্তরের দায়িত্ব কারা আসবেন তা নিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত আলোচনা চলেছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ১৯ জনের মধ্যে অধিকাংশই অনভিজ্ঞ। তাঁদের যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে বলে খবর। 

    বর্তমানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলকে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া। বিদ্রোহী জোড়াফুল বিধায়কদের সমর্থনের বার্তাকে সুকৌশলে ব্যবহার করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে বিজেপি। এক্ষেত্রে প্রধান পুরোহিতের ভূমিকা পালন করবেন স্পিকার রথীন বসু। কোচবিহারের প্রথমবারের এই বিধায়কের অভিজ্ঞতাও সীমিত। সেই কারণে এদিন রাতে দিল্লিতে ‘অপারেশন লোটাস’ নিয়ে রীতিমতো পাঠ দেওয়া হয় তাঁকে। পরিষদীয় পরিসরে বিরোধী বিধায়কদের সামলে বিধানসভার অধিবেশন সঠিকভাবে পরিচালনা করার কৌশলও বাতলানো হয়েছে। মহারাষ্ট্র সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলের প্রতীক বদলে যাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জোড়াফুল আগামীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাতে তুলে দেওয়ার আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ার মহড়া চলেছে এদিন দিল্লিতে। সবমিলিয়ে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনকে ছাপিয়ে বাংলার রাজনীতির পারদ এখন চড়ছে তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে।
  • Link to this news (বর্তমান)