মাত্র দু’মিনিটের ঝড়ে ভেঙেছে ৮০টি গাছ! তাজ্জব পুরকর্তারা
বর্তমান | ০৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টি। তার মধ্যে প্রবল ঝড়বৃষ্টি চলেছে মিনিট কুড়ি। আর ৮৮ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছিল মাত্র দু’মিনিট। আর তাতেই কলকাতা শহরে ভেঙে পড়ল ৮০টি গাছ! এই পরিসংখ্যান দেখে তাজ্জব হয়ে যাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার কর্তারা। কারণ, তাঁদের দাবি, এরকম ঝড়ে সচরাচর ৩০ থেকে ৪০টি গাছ ভাঙার ‘রেকর্ড’ ছিল। কিন্তু প্রায় দ্বিগুণ গাছ উপড়ে গিয়েছে—এটা রীতিমতো উদ্বেগের বিষয়। যদিও পুরসভা জানাচ্ছে, বর্তমানে কমিশনার স্মিতা পান্ডের নির্দেশে ‘একের বদলে দুই’ নীতি নিয়ে শহরে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, কোথাও একটি গাছ ভেঙে গেলে কিংবা কাটা পড়লে, সেখানে বা তার আশপাশে দু’টি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই নীতি মেনে ইতিমধ্যেই শহরে প্রায় ১৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুরসভার উদ্যান বিভাগ।
কয়েকদিন আগে আচমকা ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল কলকাতা। বৃষ্টির তুলনায় ঝড়ের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বহু গাছ ভেঙে পড়ে। রাস্তা আটকে যায়। যানজট তৈরি হয়। মানুষের মৃত্যুও হয়। একাধিক জায়গায় গাছ পড়ে গিয়ে দুমড়ে যায় গাড়ি। চলন্ত স্কুটারের উপর গাছ পড়ে গিয়ে চালক এবং যাত্রী আহত হন। গোটা শহর প্রায় তছনছ হয়ে যায় অল্প সময়ের সেই ঝড়ে। প্রথমে ৪০টি জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ার হিসাব থাকলেও পরবর্তীকালে সার্বিকভাবে দেখা যায়, বড়ো গাছ এবং ডালপালা ধরলে সংখ্যাটা প্রায় ৮০। পুরসভার উদ্যান বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘এই সংখ্যাটা আমাদের কাছে অবাক করার মতো। এমন ঝড়বৃষ্টিতে এতদিন দেখেছি, গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি গাছ ভাঙে। কিন্তু একেবারে ৮০টি গাছ উপড়ে গেল, অবাক হয়েছি।’
এক পুরকর্তা বলেন, ‘আজকাল বিভিন্ন পার্ক কিংবা মাঠে আমরা আম, জাম, কাঁঠাল, জামরুল, পেয়ারা বা সবেদার মতো ফলের গাছ লাগাচ্ছি, যাতে পাখি আসে। এছাড়া রাস্তার ধারে নিম, জারুল, অশোক সহ যে সমস্ত গাছের উচ্চতা তুলনামূলক কম, সেই ধরনের বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে ঝড়-জলে গাছ ভেঙে পড়লে দুর্ঘটনার প্রকোপ কমে।’ উদ্যান বিভাগ সূত্রে খবর, আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বনদপ্তরের তরফে পুরসভা পাঁচ হাজার গাছ পেয়েছে। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সেগুলি লাগানো হবে।
পাশাপাশি, যেসব জায়গায় গাছ উপড়ে গিয়েছে, সেখানেও দু’টি করে বৃক্ষরোপণ করা হবে।