হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! বাড়ি ফেরার পথে মৃত গৃহবধূ, শোকের ছায়া এলাকায়
News18 বাংলা | ০৩ জুন ২০২৬
: বাড়ি থেকে অনেক আশা নিয়ে এসেছিল গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের। আর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আসাটাই যেন কাল হয়ে উঠল এক মহিলার। ওই গৃহবধূ সঙ্গে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। আর তাতে নেমেছে এলাকায় শোকের ছায়া। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ফর্ম জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারলেন ওই গৃহবধূ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ধলহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রামেড় গ্রামের বাসিন্দা সরাজু মণ্ডল (৪৯), মঙ্গলবার ননদ চন্দনা অধিকারীর সঙ্গে ধলহরা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ফর্ম জমা দিতে গিয়েছিলেন। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ফর্ম জমা দেওয়ার পর তারা দু’জনে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কে নারণদাঁড়ি এলাকায় তমলুকগামী একটি দ্রুত গতির চারচাকার গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় সরাজু মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পাশেই পড়ে যান ননদ চন্দনাও।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় ননদ চন্দনা বৌদি সরাজু মণ্ডলকে টোটোতে করে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। ননদ চন্দনা অধিকারী বলেন, “দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় বৌদি গুরুধর আহত হয়। আমিও পাশে পড়ে গিয়েছিলাম তারপর বারবার চিৎকার করেছি, তবু বৌদি আর উঠল না। কান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। স্থানীয়দের সাহায্যে তাঁকে কোনওরকম টোটোতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকের মৃত ঘোষণা করেন।”
মৃত মহিলার স্বামী জানান, ফর্ম জমা দিতে গিয়েছিল অনেক আশা নিয়ে, যে তিন হাজার টাকা পাবেন। কিন্তু কখনও ভাবিনি ফর্ম জমা দেওয়ার পরই এমন দুর্ঘটনা ঘটবে এবং আমি তাঁকে হারাব। ঘটনার কথা ফোনে জানতে পেরে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।” অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিয়ে বাড়ি থেকে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনায় মারা গেলেন ওই গৃহবধূ। ফলে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।