বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ঝুপড়িতে আশ্রয় নেওয়াই কাল! দাঁতনে সুবর্ণরেখা নদীর ঘাটে বজ্রপাতে মৃত ১, জখম ৫
News18 বাংলা | ০৩ জুন ২০২৬
: মাথার উপর কালো হয়ে আসে আকাশ। বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় বেশ কয়েকজন মিলে আশ্রয় নেয় একটা ঝুপড়ি ঘরে। তবে সেই ঘরে দাঁড়ানটাই কাল হল ওঁদের কাছে। মুহুর্মুহু পড়তে থাকা বাজের কারণে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল এক জনের। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ওড়িশা যাওয়ার পথে আচমকা দুর্যোগ। সুবর্ণরেখা নদী পেরনোর আগেই বজ্রপাতে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও পাঁচ জন। মঙ্গলবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে দাঁতন থানার বেলমূলা ঘাট এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গোবিন্দ জানা (৩৫)। তাঁর বাড়ি দাঁতন থানার রোদনপুর এলাকায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন ওড়িশা কিংবা বাংলার বহু মানুষ সুবর্ণরেখা নদীর উপর থাকা ফেয়ার ওয়েদার সেতু দিয়ে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত যাতায়াত করে। মঙ্গলবার বিকেলের বেশ কয়েকজন এই ফেয়ার ওয়েদার সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা, বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তাঁরা বাধ্য হয়ে নদীর ঘাটের কাছেই একটি চালা ঘরে আশ্রয় নেন।
বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় যখন তাঁরা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ওই চালা ঘরের কাছে থাকা একটি খুঁটিতে সজোরে বাজ পড়ে। সরাসরি বজ্রাঘাতের কবলে পড়েন ওই ছ’জন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গোবিন্দর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই চালা ঘরের নীচে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেওয়া দু’টি কুকুরও বজ্রপাতের জেরে মারা গিয়েছে। মৃতের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, আরেকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে গোবিন্দ ওড়িশা যাচ্ছিলেন সেই সময় এই ঘটনা।
চোখের সামনে এই বীভৎস ঘটনা ঘটতে দেখে আশেপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে তাঁরাই দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার কাজে হাত লাগান। গুরুতর জখম অবস্থায় বাকি পাঁচ জনকে তড়িঘড়ি দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করান হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দাঁতন থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তও শুরু করা হয়েছে পুলিশের তরফে।