স্কুল বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়াটাই কাল! গজলডোবায় তিস্তার জলে ডুবে প্রাণ হারাল ২ পড়ুয়া
News18 বাংলা | ০৩ জুন ২০২৬
: স্কুলে গিয়ে বন্ধ গেট দেখতে পাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল চার কিশোর। কিন্তু সেই বেড়ানোই শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনল। মঙ্গলবার দুপুরে গজলডোবার পারামুন্ডা এলাকায় তিস্তার জলে ডুবে মৃত্যু হল ফুলবাড়ির অম্বিকানগর এলাকার দুই কিশোর কৃষ্ণ মণ্ডল, বয়স ১৪ ও দ্বীপ বিশ্বাস, বয়স ১৩। দুজনেই স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে চার বন্ধু সাইকেল নিয়ে স্কুলে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় স্কুলের গেট বন্ধ। এরপর তারা ঘুরতে ঘুরতে গজলডোবার পারামুন্ডা এলাকায় পৌঁছয়। প্রবল গরমের কারণে তিস্তার জলে স্নান করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে এক কিশোর জলে নামার পর গভীর জলে চলে যায় এবং তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে বাঁচানোর জন্য আরেক বন্ধু জলে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সেও প্রবল স্রোতের টানে ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই দুই কিশোরকে চোখের সামনে হারিয়ে ফেলেন তাদের সঙ্গীরা।
আতঙ্কিত হয়ে বাকি দুই বন্ধু স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ছুটে গিয়ে খবর দেয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভোরের আলো থানার পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশির পর জলের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় দুই কিশোরের নিথর দেহ। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। অম্বিকানগর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গজলডোবা ও পারামুন্ডা এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং নজরদারির অভাব রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে প্রশাসনের কাছে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।