• জ্বলন্ত হোটেল থেকে একের পর এক হোটেলের বাসিন্দার ঝাঁপ, রাস্তায় বিছানার গদি বিছিয়ে দিলেন স্থানীয়রা, তার পর...
    এই সময় | ০৩ জুন ২০২৬
  • চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলছিল পুরো বিল্ডিং। ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের আর্ত চিৎকারেই ছুটে গিয়েছিলেন স্থানীয়র লোকজন। চোখের সামনে এমন শিউরে ওঠা দৃশ্য দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন সকলে। বাড়ি থেকে আনা বালতি-বালতি জল ওই লেলিহান শিখার সামনে কিছুই নয়। অন্যদিকে, ভিতরে আটকে পড়া মানুষগুলো বাঁচতে তখন জানলা দিয়েই খুঁজছেন মুক্তির পথ। সেই বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর প্রাণ বাঁচাতেই দ্বিতীয় বার চিন্তা না করে নিজেদের বিছানার তোষক,গদি রাস্তায় বিছিয়ে দিলেন স্থানীয়রা। দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত মালব্য নগরের BnB হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে এ ভাবেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয়রা।

    দক্ষিণ দিল্লির এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতাতেই রক্ষা পেয়েছেন অনেকে। শুধু ম্যাট্রেস নয়, হোটেলের বাসিন্দাদের আগুন থেকে বাঁচাতে কেউ কম্বলও বাড়িয়ে দেন। কেউ আবার একতলার জানালার কাচ ভেঙে ধোঁয়া বেরোনোর ফোকর তৈরি করেন।

    দিল্লি দক্ষিণ জেলার SDM ও DDMA আধিকারিক জিতেন্দ্র কুমারও স্থানীয়দের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ দিয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন বলেই অনেকে বেঁচে গিয়েছেন। আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দমকলকর্মীরা জ্বলন্ত ভিতরে আটকে পড়া অনেককেই নির্বিঘ্নে বের করে আনেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মহম্মদ আফজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বাইরের পার্কে ছিল এবং আগুনের খবর শুনে বাবাকে ফোন করে। আমরা জলদি বাড়ি থেকে তোষক নিয়ে সেখানে আসি। পাশের একটি দোকান থেকে ম্যাট্রেস নিয়ে আসা হয়। এ ভাবে আমরা এক শিশু-সহ ৭ জনকে বাঁচিয়েছি।’

    তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা পড়তে হয় বিল্ডিংয়ে ঢোকা ও বেরোনোর মাত্র একটাই রাস্তা থাকায়। যার ফলে মানুষ ভিতরে আটকে পড়েন। এ ছাড়াও, ছাদের দরজাতেও তালা লাগানো ছিল। আমরা বাধ্য হয়ে ইট ছুড়ে জানলাগুলো ভেঙে দিই। যাতে কালো ধোঁয়া বের হয় ও মানুষ লাফ দিতে পারে।’

    ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের থাকার সম্ভাবনা। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

  • Link to this news (এই সময়)