• ভোট পেতে 'গৌরী সেন'! হিসেব দাবি কাউন্সিলারদের
    এই সময় | ০৩ জুন ২০২৬
  • এই সময়, কোচবিহার: হিসেব নিয়ে মঙ্গলবার কোচবিহার পুরসভার বোর্ড মিটিং উত্তপ্ত হলো। এই বৈঠকে এজেন্ডা না থাকলেও বড় হয়ে দাঁড়াল তৃণমূলের কাউন্সিলারদের হিসেব চাওয়ার বিষয়টি। পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহাকে দলেরই একাধিক কাউন্সিলার ভোটের আগে পুরসভায় কী কাজকর্ম হয়েছে, কত টাকা খরচা হয়েছে, ওন্ড ফান্ড থেকে কত টাকা খরচ হয়েছে, তার হিসেব চেয়ে বসেন। সাধারণত বছরে একবার বাজেটের সময় আয়-ব্যায়ের হিসেব পেশ হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল কোচবিহার পুরসভায়। চাপে পড়ে সাতদিনের মধ্যে আরেকটি স্পেশাল বৈঠক ডেকে কাউন্সিলারদের হিসেব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।

    কোচবিহার পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে তৃণমূলের ১৮ জন কাউন্সিলারেরর মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। দলের জেলা সভাপতি তথা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ দে ভৌমিক বৈঠকে আসেননি। এছাড়াও প্রাক্তন চেয়ারম্যান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেও বৈঠকে দেখা যায়নি। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে, বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ভোটের আগে পর্যন্ত যে সমস্ত কাজ এবং খরচ হয়েছে তার হিসেব চান কাউন্সিলাররা। সাতদিনের মধ্যে পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ফিন্যান্স অফিসার এই হিসেব তৈরি করে কাউন্সিলারদের দেবেন বলে জানান চেয়ারম্যান। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহরের মানুষের ভোট পেতে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিল কোচবিহার পুরসভা। জানা গিয়েছে, নিজস্ব তহবিলের টাকা ভেঙে এই সমস্ত কাজ করা হয়েছিল। 'ডিফারেন্ট ওয়ার্কস ডিফারেন্ট ওয়ার্ড' এই নামে প্রতিটি ওয়ার্ডপিছু প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কাজের টেন্ডার হয়েছিল।

    তার মধ্যে রাস্তা সংস্কার, নর্দমা সংস্কার-সহ একাধিক কাজ রয়েছে। এছাড়াও শহর জুড়ে একাধিক দীঘির সংস্কার করা হয়। শহরের একাধিক নর্দমা থেকে আবর্জনা তুলে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করা হয় হয়। ৭২ জন অস্থায়ী সাফাই কর্মী নিয়োগ করা হয়। ভোটের আগে পর্যন্ত অন্তত এক কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্য থেকে টাকা আসবার কথা থাকলেও সেই বরাদ্দ আসেনি। আর এখন রাজ্যে পালাবদলের ফলে বরাদ্দ না এলে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বেতন দেওয়া নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে।

    এই বিষয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলার ভূষণ সিং বলছেন, 'ভোটের আগে কত লোক নেওয়া হয়েছে, কত খরচ হয়েছে, কী অর্ডার হয়েছিল তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে কাউন্সিলাররা অন্ধকারে।' পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা বলেন, 'নিয়ম মেনে সমস্ত কাজ হয়েছে। কবে অর্ডার হয়েছিল সমস্ত তথ্যই রয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)