• চা শ্রমিকদের উন্নয়নে আসা ৩১৩ কোটি খরচই হয়নি
    এই সময় | ০৩ জুন ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: রুগ্ন ও বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ এসেছিল ২০২১-- এ। পূর্বতন তৃণমূল সরকার সেই টাকা খরচ করতে পারেনি বলে অভিযোগ। পড়ে থাকা সেই ৩১৩ কোটি টাকা এ বার চা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করবে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় এ ব্যাপারে উত্তরবঙ্গের চা বলয় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক, সাংসদ, সরকারি আধিকারিকদে নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে চলতি মাসেই চা বাগানগুলির নারী ও শিশু কল্যাণে কী ভাবে এই টাকা খরচ করা যায়, তার তালিকা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে বিধায়কদের।

    চলতি অর্থ বর্ষেই সমস্ত টাকা ব্যয় করা হবে। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, 'তৃণমূল চা শ্রমিকদের জন্য কোনও কাজ করেনি। কেন্দ্রের পাঠানো ৩১৩ কোটি টাকা প্রায় পাঁচ বছর ধরে পড়েছিল। ফলে এখন আমাদের হাতে এই অর্থ ব্যয়ের জন্য মাত্র ন'মাস সময় রয়েছে। তবে আমরা দ্রুত এই অর্থ ব্যয় করব।' - আইএনটিটিইউসির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কুল সোনার অবশ্য - পড়ে থাকা ৩১৩ কোটি টাকার কথা - জানেননা। তিনি বলেন, 'কেন শ্রমদপ্তর চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের - বরাদ্দ করা টাকা খরচ করতে পারেনি, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তবে যতটুকু জানা আছে তাতে, টাকা বরাদ্দ করা হলেও পূর্বতন রাজ্য সরকার সেই টাকা হাতে পায়নি বলে শুনেছি।'

    উত্তরবঙ্গের অন্যতম শিল্প চা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের = বিবাদ সর্বজনবিদিত। রাজ্যের একটি শিল্পগোষ্ঠীর ১৭টি চা বাগান একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রীয় সরকার সাতটি চা বাগান অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী নিজে চা বাগানে গিয়ে অধিগ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পরে আইনি জটিলতায় অধিগ্রহণের কাজ করা সম্ভব না হওয়ায়, রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। চা শ্রমিকদের জন্য গৃহনির্মাণ (চা সুন্দরী), চা বাগানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার জন্য ৩০ শতাংশ জমি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও পাল্টা বিবাদ শুরু হয়। তবে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৩০০টি চা বাগানের ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার চা শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার সেভাবে সুরাহা হয়নি, শ্রমিকবস্তিতে গেলেই তা স্পষ্ট হয়।

    এ দিন রাজু বিস্তের দেওয়া তথ্য অনুসারে, উত্তরবঙ্গের চা বাগান মালিকদের পিএফ বকেয়ার জেরে ১৭৫টি এফআইআর হয়েছে। কোনওটির ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। তবে এ বার পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ। তাঁর দাবি, 'চা বাগান নিয়ে খেয়ালখুশি পদক্ষেপ আর চলবে না। বোনাস নিয়েও কোনও আলোচনা হবে না। যেটা চূড়ান্ত হবে, সেটাই মিটিয়ে দিতে হবে। পি এফ এবং গ্রাচ্যুইটি ইস্যু দ্রুত মেটাতে হবে। চা বাগানের জমিতে হোটেল করা যাবে না। মালিকেরা চা বাগান না-চালালে সেটি সমবায় ভিত্তিতে চালানো হবে।' তবে বন্ধ চা বাগান ইস্যুতে এখনও ধন্দ কাটেনি। ঠিক কতগুলি চা বাগান বন্ধ সেই ব্যাপারে এখনও কোনও সঠিক তথ্য কারও কাছেই নেই। দার্জিলিংয়ের সাংসদ বলেন, 'আমি জানি ১৮টি চা বাগান বন্ধ। মালিকেরা বলছেন, ২৫টি চা বাগান বন্ধ। তবে বাস্তবে কতগুলি বাগানে অচলাবস্থ চলছে, খতিয়ে দেখা হবে।' এ দিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, নাগরাকাটার সাংসদ মনোজ টিপ্পা।

    জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন দে বলেন, 'যে ৩১৩ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে সেটা অনেক পুরোনো গল্প। রাজ্যকে এই টাকা খরচ করতে দেওয়া হয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। সেটা যেন পূরণ করা হয়।'

    সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল হক বলেন, '২০১৯-২০ অর্থবর্ষে অসম ও আমাদের রাজ্যে নারী শিশু কল্যাণে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। পরে সেই টাকার হদিশ আমরা পাইনি। আমরা চাই, ৩১৩ কোটিও যদি হয়, সেই টাকায় ভেঙে পড়া হাসপাতালগুলি সংস্কার, আরও বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তুলে পুষ্টির মান বাড়ানো দরকার। নারী ও শিশুদের স্বার্থে আরও বেশি করে যোজনা তৈরি করা হোক।'

  • Link to this news (এই সময়)