তৃণমূল ‘ভাগ’ হতেই ভেঙে গেল তৃণমূলের সব কমিটি। ভেঙে দেওয়া হলো রাজ্যের সমস্ত শাখা সংগঠনও। বুধবার বিধানসভায় সিংহভাগ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনে যখন ‘আসল তৃণমূল’-এর তরফে ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সেই সময়ে AITC-র পেজে পোস্ট করে জানানো হলো এই খবর।
দু’দিন ধরে একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, তবে কি তছনছ হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস? ৩১ মে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ৮০ তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে হাজির হয়েছিলেন মেরেকেটে ১৭! সেই বৈঠকই ভেস্তে যায়।
১ জুন তৃণমূলের তরফে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল প্রতি অঞ্চল, ব্লকে, প্রতি ওয়ার্ডে। সেই কর্মসূচিতেও ময়দানে কাউকে দেখা যায়নি। ২ জুন ওয়াই চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনা আটেক বিধায়ক, জনা ছয়েক সাংসদ। তবে সারাক্ষণ তাঁদের দেখা যায়নি।
এর পরেই আজ, ৩ জুন যত কাণ্ড বিধানসভায়। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা চেয়ে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক হাজির হন সেখানে। স্পিকারকে চিঠি দেন। সেখানে সাবিনা ইয়াসমিন থেকে কানাইয়ালাল আগরওয়াল, রথীন ঘোষ থেকে শিউলি সাহা, আখরুজ্জামান কে ছিলেন না। সকলেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, সই-বিতর্কে সায় নেই তাঁদের। নিন্দা করেছেন প্রকাশ্যেই। টালমাটাল তৃণমূলের তরী। এরই মধ্যে তৃণমূলের সমস্ত শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হলো।
অনেকের অনুমান, নির্বাচনে তৃণমূলের মুখ থুবড়ে পড়া এবং পরবর্তীতে দলের অস্তিত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, ছাত্র, যুব, শ্রমিক, মহিলা সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর কথা ভাবছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।