আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ‘ক্ষয়িষ্ণু’ রূপ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ 'কোন্দল' - একাধিক ইস্যুতে ফের একবার তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
কলেজ চত্বরে টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দিলীপবাবুর বিস্ফোরক দাবি, “কলেজ-ইউনিভার্সিটিগুলো এখন রিসর্টে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা নিচে নেমেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।”
তিনি বলেন," এটাই তো চলছে। কোনও ইউনিয়ন নেই, কেউ যেতে পারবে না, ভর্তি হবে, অনলাইন ব্যবস্থার জন্য কত লড়াই করতে হয়েছে তারপরও হয়নি। এই যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে কেন? অনলাইনে যাতে না হয়, এক একটা কোর্সে ভর্তি করতে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হতো। যেসব ভালো কোর্স আছে, সেখানে টাকা দিয়ে ভর্তি করা হতো। ইউনিভার্সিটি কলেজ গুলোর যদি এই পরিবেশ হয়, মেডিক্যাল কলেজে যদি ডাক্তার ধর্ষিতা হয়, তাহলে কত নীচে নেমেছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা! আর সেটা মমতা ব্যানার্জি সব জানেন। শুধু টাকা লুঠ করার জন্য এসব করেছেন।"
অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে দিলীপ বাবু বলেন, "যেখানে হার্মাদদের আড্ডা হবে, অ্যান্টি সোশ্যালদের আড্ডা হবে, সেখানে হাতিয়ার থাকবে, মদের বোতল থাকবে, বাকি সব থাকবে। কসবা ল কলেজে কী হলো? ওদের পার্টির কর্মীকেই নিজেদের পার্টির নেতা ধর্ষণ করল। এইতো কলেজগুলোর হাল! একটা দুটো প্রকাশ্যে আসছে বলে আপনারা জানতে পারছেন, খবর করছেন। প্রত্যেকটা ইউনিভার্সিটি কলেজে এই একই রকম পরিস্থিতি আছে। বাবা মায়েরা চিন্তা করছেন ছেলে-মেয়েদেরকে পাঠাবেন কিনা। তাই এখান থেকে বাংলার বাইরে সবাই চলে যাচ্ছে পড়াশোনা করতে।"
শিয়ালদাহ স্টেশনের পাশ থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন," হসপিটাল কলেজ ইউনিভার্সিটি যেখানে মানুষ সন্দেহ করবে না সেখানে সব থেকে বেশি অকাজ কু কাজ হয়েছে। বোম বন্দুক থেকে টাকা পয়সা লুটপাট, মদ খাওয়া ফুর্তি এসব হতো। আপনি ভাবুন কি পরিস্থিতি হয়েছে! এত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছিল নির্বাচনে লড়াই করার জন্য, নির্বাচন কমিশন কোনও কিছুই করতে দিল না। এইসব হাতিয়ার পত্র তো আছেই। ছাপা মারলেই এই সবগুলোই পাওয়া যাবে।"
নেতা আরও বলেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রসঙ্গে বলেন," ফ্রিতে বাসযাত্রা আমরা শুরু করে দিয়েছি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারও আজ থেকে শুরু হয়ে যাবে। কয়েকদিনের মধ্যে জিরাঞ্জির ১২৫ দিনের কাজ শুরু হবে। সব প্রসেসের মধ্যে রয়েছে ফান্ড এসে যাচ্ছে। এই মাসের মধ্যে বেশিরভাগ প্রকল্প চালু হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, হকার উচ্ছেদ ও কলেজস্ট্রিটের বইয়ের দোকান ভাঙচুর নিয়ে নেতার স্পষ্ট বক্তব্য, "দেখুন ভুয়া খবর রটিয়ে মানুষকে খ্যাপানো বা ভয়ের চেষ্টা চলছে। কেউ ঘাবড়াবেন না এতে। কোনও গুজবে কান দেবেন না। সরকার একটা পলিসি নিয়ে এসেছে। ফুটপাত না থাকলে মানুষ যাবে কী করে। বৃষ্টির দিনে আমি দেখেছি রাস্তায় জল জমে থাকলে মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারে না। মহিলারা পর্যন্ত বাধ্য হচ্ছেন কাপড় তুলে সেখান থেকে হাঁটতে। এটা কি কোনও সভ্য সমাজের ছবি হতে পারে? তার জন্য যদি ফুটপাত খালি করা হয়, মানুষের হাঁটার জন্য এখানে কেউ কেউ সমবেদনা জানাতে চলে এসেছেন। যাঁরা টাকা নিয়ে বসিয়েছেন তাঁদের কষ্ট হচ্ছে। রেলের প্লাটফর্ম ব্যবসা করার জায়গা নয়। আপনি সাউথ সেকশনে যান নর্থ সেকশনে যান, কোনও প্ল্যাটফর্ম খালি দেখতে পাবেন না। দাঁড়াবার বসার জায়গা পাবেন না। কিছু কড়া ডিসিশন আমাদেরকে নিতে হচ্ছে সেটা সবাইকে মানতে হবে।"
দেবাশিস ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জি নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "কার কথা জানতেন না সোনারপুরে একটা গাঁজাখোর মাতাল বদমায়েশ লোক তার বাড়িতে উনি চলে গেলেন এমন ইম্পরট্যান্ট ছিল। পাড়ার সব লোককে জ্বালিয়ে রেখেছিল সে। তার মৃত্যু হয়েছে কারোর কোনও কষ্ট নেই সে কীভাবে মারা গেল, মদ খেয়ে নাকি রাস্তায় পড়ে মারা গেল সে কেউ জানে না। সুইসাইড করেছে কিনা সেটাও কেউ জানে না। তার বাড়ি চলে যাচ্ছেন ড্রামা করতে। মানুষের ক্ষোভকে কেন উস্কে দিচ্ছেন আপনি। সত্যি যদি কেউ মারা গিয়ে থাকে বাড়ি ছাড়া থাকে তাহলে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ৩০ দিন পুলিশ দিয়ে সসম্মানে তাদেরকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। কোথাও পাচ্ছেন না একটা মাতালের বাড়ি চলে গেলেন, যেমন লোক কাজ তেমন স্ট্যান্ডার। যেরকম তার নেতা সেরকম তার কর্মী।"
কুনাল ঘোষের পোস্ট নিয়ে তাঁর বক্তব্য, " কটাক্ষ করুন আর যাই করুন টিএমসিতে এখন একজনই বেঁচে আছেন, তিনি হলেন কুনাল ঘোষ। দেশের জন্য লড়াই করছেন, রাস্তায় শুয়ে পড়ছেন দিদির হাওয়া এখনও খাচ্ছেন। যাঁরা দিদির হাওয়া খেয়েছেন তাঁরা কোথায় হাওয়া খাচ্ছেন জানেন তো? জেলে তাঁরা এখন। আমার মনে হয় এটা লাস্ট উইকেট চলছে। ৯ নম্বর ব্যাটসম্যান এখন নেমেছেন ব্যাটিং করতে। কুনাল ঘোষ টিএমসির হয়ে ব্যাটিং করছেন।"
জেলায় জেলায় একাধিক তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, " এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। হাজার কাউন্সিলর আছে, পঞ্চায়েত প্রধান আছে কত জন অ্যারেস্ট হয়েছে? সবকটা ক্রিমিনাল। সবকটা সমাজবিরোধী। পাবলিক ধরছে। আমরা কাঠ মানির কথা বলতাম এটা নিয়ে হাসাহাসি হতো। আজকে ওদের নেতারা প্রকাশ্যে পাবলিককে ডেকে জনতা দরবার করে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে টাকা ফেরত দিচ্ছেন। এবার আইন দেখবে কী করণীয়।"