• 'মমতা তৃণমূল' ভেঙে খানখান, সঙ্গ ছাড়ছেন ৮ বিধায়ক!
    আজকাল | ০৩ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার 'বারবেলার' আগেই মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের বড় 'ভাঙন' নামতে চলেছে। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আজই মমতা ব্যানার্জির 'সঙ্গ' ছাড়তে চলেছেন মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের কমপক্ষে আটজন বিধায়ক। 

    ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলার বেশিরভাগ তৃণমূল বিধায়ক দলের 'সংখ্যাগরিষ্ঠ লবির' পাশে দাঁড়ানোর জন্য কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আজই ওই বিধায়করা মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি মনোনীত শোভনদেব চ্যাটার্জির পরিবর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী লবির' অন্য এক নেতাকে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে মনোনীত করে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিতে চলেছেন।  প্রসঙ্গত, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২২ আসন বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায় কুড়িটি আসনে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বছর মাত্র দু'টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২৬-এর নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে বয়ে যাওয়া বিজেপি ঝড়ে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আগের বারের তুলনায় যথেষ্টই খারাপ হয়েছে। এবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল মাত্র ন'টি আসন থেকে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির দখলে গিয়েছে আটটি আসন। দু'টি আসন থেকে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস। হুমায়ুন কবীর 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে জয়ী হয়েছেন দু'টি আসন থেকে। বামফ্রন্ট পেয়েছে একটি আসন। 

    বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক এবং আইনি লড়াইতে জড়িয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক শোভনদেব চ্যাটার্জি পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন।  তাঁর পরিবর্তে 'বিক্ষুব্ধ' তৃণমূল নেতা হিসেবে উঠে আসছে ঋতব্রত ব্যানার্জির নাম। 

    মাত্র কয়েক মাস আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শক্ত 'গড়' হিসেবে পরিচিতি লাভ করা মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় এবার বেশিরভাগ তৃণমূল বিধায়কই  মমতা ব্যানার্জির 'সঙ্গ' ছাড়ছেন বলে সূত্রের খবর।

    মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ জেলায় এই বিদ্রোহে 'নেতৃত্ব' দিচ্ছেন একসময় তাঁরই ক্যাবিনেটের অন্যতম সদস্য তথা রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান। আখরুজ্জামান এবছরও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। 

    তৃণমূল সূত্রের খবর, আখরুজ্জামানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলার বেশিরভাগ নির্বাচিত বিধায়ক রাজ্য বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের 'সংখ্যাগরিষ্ঠ' অংশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। 

    কলকাতা থেকে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন," মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ৯ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জন বিধায়কের সমর্থন  আমাদের সঙ্গে রয়েছে। কেবলমাত্র জলঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলী এখনও পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে নেই।"

    তবে এখনও ঋতব্রত ব্যানার্জির 'নেতৃত্বাধীন' তৃণমূল কংগ্রেসের 'সংখ্যাগরিষ্ঠ' বিধায়কদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানসিকভাবে তৈরি নন তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জলঙ্গীর নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাবর আলী। তিনি বলেন," আমি আজ কলকাতা যাচ্ছি না। আমি রাজনীতিতে আসতে চাইনি। মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জির হাত ধরেই আমার রাজনীতিতে প্রবেশ। কিন্তু দলের খারাপ ফলাফলের এক মাসের মধ্যে বিধায়কেরা যে আচরণ করছেন তা যথেষ্ট হতাশাজনক।" তিনি বলেন," আমি কোনও বিধায়কের নাম করব না কিন্তু দলের একাধিক সিনিয়র বিধায়ক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাঁরা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন কলকাতায় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের পাশে  থাকার জন্য। আমি তাঁদের জানিয়ে দিয়েছি দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আমি শোভনদেব চ্যাটার্জিকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচনের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলাম। মমতা ব্যানার্জি যদি আমাকে অন্য কোনও ব্যক্তিকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করার পক্ষে সই করতে নির্দেশ দেন আমি তাঁর পক্ষে সই করে দেব। আমি রাজনীতি বুঝি না। আমি আশা করব রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার জলঙ্গী বিধানসভার উন্নয়নে এবং শিক্ষার উন্নয়নে আমাকে সহযোগিতা করবে।"
  • Link to this news (আজকাল)