• কাদের নিয়ে গঠিত হল ‘নব তৃণমূল'?
    আজকাল | ০৩ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে এবার চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভূমিকম্প। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এখনও এক মাসও কাটেনি, তার মধ্যেই কার্যত তছনছ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে রাজ্য বিধানসভার ভেতরেই তৈরি হয়ে গেল দুটি আলাদা গোষ্ঠী। একটি ‘আদি তৃণমূল’ আর অন্যটি হলো ‘নব তৃণমূল ব্লক’। আর এই নতুন ব্লকের হাত ধরেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তাঁর এই নতুন দলে উপ-দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। বুধবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল বিধানসভা, যেখানে ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি নিয়ে সটান ভেতরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত ব্যানার্জি।

    এই বেনজির ভাঙন এবং ফাটলের নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সই জালিয়াতির এক মারাত্মক অভিযোগ। তৃণমূলের অন্দরে এই সই নিয়ে বিতর্ক এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, ঘটনার তদন্তে নামতে হয় সিআইডি-কে। দলেরই দুই বিধায়ক— সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত ব্যানার্জি স্বয়ং স্পিকারের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তড়িঘড়ি এই দুজনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু সেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তই যে বুমেরাং হয়ে কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করবে, তা হয়তো অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি।

    বহিষ্কারের পর দমে না গিয়ে ঋতব্রতর নেতৃত্বে একজোট হন ৫৮ জন বিধায়ক। কালীঘাটের অনুশাসন ভেঙে তাঁরা নিজেদের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে ঋতব্রত ব্যানার্জিকেই  তাঁদের বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। এরপরই স্পিকারের ঘরে গিয়ে জমা পড়ে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত সেই ঐতিহাসিক চিঠি। সংখ্যার এই বিপুল ফারাকের কারণেই বিধানসভা কর্তৃপক্ষ এই নতুন ব্লককে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    তবে এই বিদ্রোহের মধ্যে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এই ৫৮ জন বিধায়ক কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোনো দলে যোগ দেননি বা সম্পূর্ণ নতুন কোনও  রাজনৈতিক দল গঠন করেননি। তাঁরা এখনও মমতা ব্যানার্জিকেই  নিজেদের সর্বময় নেত্রী হিসেবে মানছেন। তবে তাঁদের দাবি, নীতিগতভাবে তাঁরাই হলেন ‘প্রকৃত তৃণমূল ব্লক’। বিধানসভার বর্তমান পাটিগণিত অনুযায়ী, মমতা-অভিষেকের পাশে থাকা ‘আদি তৃণমূল’ বিধায়কের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২-এ, অন্যদিকে ঋতব্রতর ‘নব তৃণমূল ব্লকে’র পাল্লা ৫৮ জন বিধায়ক নিয়ে ভারী। এই হিসাবের জেরে বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব জটিল পরিস্থিতি তৈরি হল।
  • Link to this news (আজকাল)