• বীরভূমে রাজনৈতিক হিংসার বলি তৃণমূল কর্মী
    আজকাল | ০৩ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বীরভূমের বোলপুর থানার অন্তর্গত বাহিরী পাঁচশোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহিরী পূর্বপাড়া গ্রামে এক তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম হাবল লোহার (৪৮)। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে একদল দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে পিটিয়ে খুন করে। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় হাবল লোহার গ্রামেরই বাসিন্দা সুদীপ লোহারের সঙ্গে বসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী সেখানে এসে তাঁদের উপর হামলা চালায়। প্রাণে বাঁচতে সুদীপ লোহার সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি হাবল লোহার। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়।

    সুদীপ লোহার দাবি করেছেন, হামলাকারীরা তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে এবং তৃণমূল করার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে। তাঁর অভিযোগ, তপন মালের নেতৃত্বে কয়েকজন দুষ্কৃতী এই হামলায় অংশ নিয়েছিল। তিনি কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি রাতভর একটি গাছের ডালে লুকিয়ে ছিলেন বলেও জানান।

    মৃতের মেয়ে অনু বিবি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে তাঁর বাবাকে। মৃতের নাবালক ছেলেও এই ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকালে বোলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এবং বিজেপির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।
  • Link to this news (আজকাল)