• মাথায় ছিলেন ফিরহাদ, সেই তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে প্রশাসক বসাচ্ছে শুভেন্দু সরকার
    প্রতিদিন | ০৩ জুন ২০২৬
  • তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত করছে রাজ্য সরকার। আসন্ন শ্রাবণী মেলা উপলক্ষেও আগত পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত করা হবে। তারকেশ্বরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে এমনই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম তারকেশ্বরে যান শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মন্দিরে ঢুকে মহাদেবের কাছে অঞ্জলি দেন তিনি। পরে যোগ দেন প্রশাসনিক বৈঠকে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হয়েছে অর্থাৎ ডিফান্ড করা হয়েছে। আজকেই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল ও প্রধান সচিবকে নির্দেশ দেব। এডিএম জেলা পরিষদ অনুজ প্রতাপ সিং-কে আমরা প্রশাসক করছি। শ্রাবণীমেলা উপলক্ষে বাবা তারকনাথের পবিত্র ভূমি এই তারকেশ্বরে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য বড় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারকেশ্বর মন্দিরকে কেন্দ্র করে আমরা কিছু কাজ করব।”

    প্রসঙ্গত, আগের সরকার তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ গঠন করেছিল ২০১৭ সালের ১ জুন। চেয়ারম্যান করা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিমকে, যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। এ দিন শুভেন্দু জানিয়ে দেন, মন্দিরের আশপাশে আর নীল-সাদা রং থাকবে না। এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই পবিত্র দুধপুকুর পাড়ে কী সব রং করে রেখেছে! আধ্যাত্মিকতা বা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই আদৌ নয়। সেই রং পরিবর্তন আগে করা দরকার।”

    মঙ্গলবার তারকেশ্বরে পৌঁছনোর পর উত্তরীয় পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান। ছিলেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। এরপর পুজো দিয়ে তিনি স্থানীয় অতিথিশালায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। সেখানে তাঁকে গার্ড অফ অনার দিয়ে সম্মান জানায় পুলিশ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী তথা হুগলির দুই বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং সুমনা সরকার। হুগলির বাকি ১৪ জন বিজেপি বিধায়কও এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, কমিশনারেটের কমিশনার সুনীল কুমার যাদব, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১৯৪৭-এর ২০ জুন মাঙ্গের ভারতভুক্তির রেজুলিউশন হয়েছিল তারকেশ্বরে। তারকেশ্বর ঐতিহাসিক জায়গা। সামনে ২০ জুন তাই আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। এর আগে একাধিকবার শুভেন্দু তারকেশ্বরে এসেছেন। রামমন্দির প্রতিষ্ঠার আগে রামের মূর্তি মাথায় নিয়ে গোটা তারকেশ্বর শহর পরিক্রমা করেছিলেন। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে সেই স্মৃতিচারণও করেন তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)